ছাতক পৌরসভায় নেই স্থায়ী সচিব সেবায় ধীরগতি বাড়ছে ক্ষো/ভ
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ AM

ছাতক পৌরসভায় নেই স্থায়ী সচিব সেবায় ধীরগতি বাড়ছে ক্ষো/ভ

মোশাররফ হোসেন, ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৬ ১২:২৩:২৮ AM

ছাতক পৌরসভায় নেই স্থায়ী সচিব  সেবায় ধীরগতি  বাড়ছে ক্ষো/ভ

ছবি:সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের ছাতক এ গ্রেড পৌরসভায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নেই স্থায়ী সচিব। অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত সচিবকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চলছে ছাতক পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম। একই কর্মকর্তা একদিকে নিজ কর্মস্থলের দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ছাতক পৌরসভার কাজ পরিচালনা করায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের গতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকরা।

নাগরিকদের অভিযোগ, পৌরসভার অধিকাংশ কার্যক্রমই বর্তমানে অনলাইননির্ভর। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং-সংক্রান্ত কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, নথি অনুমোদনসহ নানা নাগরিক সেবা দ্রুত সম্পন্ন করতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু ছাতক পৌরসভার সচিব অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত থাকায় সবসময় এখানে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কোনো সেবা বা নথির জন্য পৌরসভায় এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পেয়ে তাদের একাধিকবার ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ এতে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। অনলাইনে আবেদন করার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

পৌরশহরের পেপার মিল এলাকার সেবাগ্রহীতা আবু তায়েব জানান, গত বৃহস্পতিবার অনলাইনে নাগরিক সনদের জন্য আবেদন করে পৌরসভা ও উপজেলা কার্যালয়ে চারবার আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর পৌরসভার সচিব অনুমোদন না দিলে আবেদনটি পৌর প্রশাসক/মেয়রের কাছে যায় না। সংশ্লিষ্ট সচিব অন্য একটি পৌরসভায় কর্মরত থাকায় তিনি পরবর্তী সপ্তাহে ছাতকে আসবেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর তাঁর অনুমোদনের পর পৌর প্রশাসক/মেয়র আবেদনটি মঞ্জুর করলে নাগরিক সনদ পাওয়া যাবে।

তিনি জানান, পৌর প্রশাসকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, সচিব অনুমোদন দিয়ে আবেদনটি তাঁর কাছে পাঠালে তিনি মোবাইল থেকেই তাৎক্ষণিক অনুমোদন করে দেবেন। অথচ আগে অফলাইনে এক ঘণ্টার মধ্যেই নাগরিক সনদ পাওয়া যেত। অনলাইন সেবা চালুর পরও একদিন অপেক্ষা করেও সনদ পাননি। এতে তাঁর জরুরি কাজ ব্যাহত হয়েছে।

পৌরশহরের ভাজনামহল এলাকার বাসিন্দা ও ছাতক পৌর যুবদলের আহ্বায়ক খায়ের উদ্দিন বলেন, ছাতক পৌরসভা একটি এ গ্রেড পৌরসভা। কিন্তু এখানে স্থায়ী সচিব না থাকায় নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভায় এভাবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ছাতক পৌরসভায় একজন স্থায়ী সচিব নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

ছাতক পৌরসভার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব শরদিন্দু রায় জানান, তিনি ২০২৪ সালের জুন মাসে ছাতক পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর বর্তমান কর্মস্থল কানাইঘাট পৌরসভা। এর আগে তিনি কুলাউড়া পৌরসভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ছাতক পৌরসভায় সপ্তাহে কোনো কোনো সময় দুই দিন এবং কোনো কোনো সপ্তাহে তিন দিনও অফিস করেন। দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিব নেই। এরপরও তিনি ছাতক পৌরসভার জরুরি কাজসহ তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছেন। যেদিন ছাতক পৌরসভায় থাকেন না, সেদিন কোনো জরুরি কাজ থাকলে অফিসের কর্মচারীরা তাঁকে জানালে কানাইঘাট থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

শরদিন্দু রায় আরও জানান, নাগরিকদের কোনো ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো আবেদন বাকি থেকে যেতে পারে। দুটি পৌরসভার দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে তাঁর কোনো ধরনের অসুবিধা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ছাতকের পৌর প্রশাসক মো. মহি উদ্দিন জানান, ছাতক পৌরসভা একটি বড় ও এ গ্রেডের পৌরসভা। এ হিসেবে এখানে একজন স্থায়ী সচিব থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে এখন পর্যন্ত পৌরসভার নাগরিক সেবা নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। দেশের অনেক পৌরসভাতেই বর্তমানে সচিবের পদ শূন্য রয়েছে। তারপরও নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ