অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে বি/রোধ, জমির দখল পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ AM

অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে বি/রোধ, জমির দখল পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

মহি উদ্দিন, কুলাউড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০/০৯/২০২৬ ১১:১৫:১৪ PM

অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে বি/রোধ, জমির দখল পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন

ছবি:সংগৃহীত


মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজায় প্রায় ৩ একর ৭ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আদালতের রায়ে ওই জমিতে নিজেদের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে দখল বুঝে পেতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন জমির দাবিদার নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী নিবাস চন্দ্র দাস (চুনু)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

লিখিত বক্তব্যে নিবাস চন্দ্র দাস বলেন, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ১২৫, আরএস খতিয়ান নম্বর ২৬০, এসএ দাগ নম্বর ১৪০৩ ও ১৪০৪ এবং আরএস দাগ নম্বর ১৬৭১ ও ১৬৭২-এর আওতাধীন মোট ৩ একর ৭ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন দুই সহোদর জিতেন্দ্র কুমার দাস ও বারিন্ড কুমার দাস।

তাঁর দাবি, বারিন্ড কুমার দাস নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তাঁর সম্পত্তির মালিকানা জিতেন্দ্র কুমার দাসের কাছে আসে। জিতেন্দ্র কুমার দাসের তিন ছেলে থাকলেও তাঁদের মধ্যে দুজন দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। মৃত্যুর আগে জিতেন্দ্র কুমার দাস তাঁর সম্পত্তি জ্যেষ্ঠ ছেলে নিখিল চন্দ্র দাসকে দলিল করে দেন বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাধীনতার পর ওই ৩ একর ৭ শতক জমি সরকারি নথিতে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে ২ একর ৮২ শতক জমি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সরকারের কাছ থেকে একসনা বন্দোবস্ত নেন বলে দাবি করা হয়। পরে বন্দোবস্ত পাওয়া ব্যক্তিরা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত জমির স্বত্ব ফিরে পেতে ২০০৮ সালে আদালতের শরণাপন্ন হন নিখিল চন্দ্র দাস। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি আদালতের রায়ে ওই জমিতে তাঁর স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর নামে জমির নামজারিও সম্পন্ন হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এরপর জমির দখল বুঝিয়ে দিতে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান নিবাস চন্দ্র দাস।

এদিকে, বিষয়টি জানার পর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু সামাজিকভাবে বিরোধটি সমাধানের উদ্যোগ নেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

নিবাস চন্দ্র দাস বলেন, গত ২৬ আগস্ট সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু ও বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। এ সময় বর্তমানে জমিতে বসবাসকারীদের পক্ষ থেকে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে-এমন অভিযোগ তুলে কয়েকজন সাংবাদিককে ডেকে আনা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর দাবি, এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। এলাকার সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সংসদ সদস্যের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, একটি মহল তাঁকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ে প্রতিষ্ঠিত স্বত্বের ভিত্তিতে প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত জমির দখল প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তবে জমিতে বর্তমানে বসবাসকারী বা দখলে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য এ সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হলে বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ