ছবি:সংগৃহীত
আবাসিক এলাকার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও বসবাসের উপযোগিতা রক্ষায় আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে কোনো অবস্থাতেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় মনোনীত রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) তপোবন হাউজিং কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। সিউকের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হওয়ায় সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
একই অনুষ্ঠানে তপোবন মডেল আবাসিক এলাকার আধুনিক ‘সিকিউরিটি সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
তপোবন হাউজিং কল্যাণ সমিতির সভাপতি, সাংবাদিক ও কবি মুহিত চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং ডা. মাহফুজ হাসান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাহির মাহমুদ চৌধুরী।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটকে আধুনিক, সুপরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও ঝুঁকিমুক্ত নগরায়ণ নিশ্চিত করা জরুরি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় অননুমোদিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম নগরজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, “সিলেটকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং আবাসিক এলাকাগুলোর সার্বিক উন্নয়নে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাবে।”
তপোবন আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক সিকিউরিটি সিস্টেম চালুর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যান্য আবাসিক এলাকার জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।
কয়েস লোদী আরও বলেন, নগর উন্নয়নে শুধু বড় প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; পরিকল্পিত আবাসন, সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি উন্নত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে মুহিত চৌধুরী বলেন, একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু, নারী, প্রবীণসহ সব বাসিন্দার নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আধুনিক সিকিউরিটি সিস্টেম চালুর ফলে বহিরাগতদের চলাচল পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসিন্দাদের সচেতনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তপোবন জামে মসজিদের সভাপতি আ ন ম ওহীদ কনা মিয়া, তপোবন হাউজিং কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি ও চিকিৎসক ডা. এস. এস. আই. এইচ. জালালী, তপোবন জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মাহমুদুল হোসেন সেজু এবং মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা মুফতি নোমান আহমেদ।
বক্তারা সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সাফল্য কামনা করেন এবং সিলেটের নগর উন্নয়নে তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। তাঁরা তাঁর নেতৃত্বে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুম আহমদ ও সাংবাদিক আবু জাবের।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




