ছবি:সংগৃহীত
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট, ব্যবসায়িক মন্দা ও তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে সিলেট নগরের শাহী ঈদগাহ মাঠে সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী মেলার আয়োজনের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া অন্য কোনো স্থানীয়, পণ্য বা ইনডোর মেলার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএমসিসিআই)।
মেলা বন্ধের দাবিতে আগামী রোববার সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরের বারুতখানাস্থ ফুড প্যারাডাইস হোটেলের হলরুমে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা এবং মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত জরুরি যৌথ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন। সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ আজিজুল করিম ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি পাভেল। স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মল্লিক মুন্না।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, কর্মচারীদের বেতন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর-ভ্যাটসহ ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় মেটাতেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন। এর মধ্যে একাধিক মেলা আয়োজন করা হলে নিয়মিত ব্যবসায়ীরা আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তাঁরা বলেন, ব্যবসায়ীরা মেলার বিরোধী নন। প্রচলিত বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী সিলেটে বছরে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হলে তাঁরা সহযোগিতা করবেন। তবে পৃথকভাবে একাধিক মেলা আয়োজন না করে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার ও উইমেন চেম্বারকে সমন্বিতভাবে বছরে একটি মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান তাঁরা।
ব্যবসায়ী নেতারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা প্রশাসক এবং এসএমপি কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, একই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএমসিসিআই)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি খায়রুল হোসেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া সিলেটে স্থানীয়, পণ্য বা ইনডোর মেলার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেটের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সারা বছর চড়া দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন, সরকারি কর ও ভ্যাট পরিশোধ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি মেলা বা ইনডোর মেলার আয়োজন হলে নিয়মিত ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে এসএমসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদ্যুৎ ঘাটতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সিলেটের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় মেলা আয়োজনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা যুক্তিযুক্ত নয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে স্থানীয় যেকোনো মেলার অনুমতি বাতিল ও বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বৈদেশিক বাণিজ্য ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও স্থানীয় বাজার ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সিলেট জেলা দোকান মালিক সমিতি, সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এসএমসিসিআই।
সভায় সিলেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল করিম, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন, শুকরিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শুয়েব আহমদ রশীদ, বৃহত্তর জিন্দাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির ফরহাদ উল্লাহ চৌধুরী, জেলা ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়েক মিয়া, মধুবন সুপার মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মনছুর আহমদ, কুমারপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাহিদুর রহমান, সিলেট ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিন কামাল, সিলেট ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের সহসভাপতি লুৎফুর রহমান লিলুসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




