ছবি:সংগৃহীত
সিলেটে ঘন ঘন স্থানীয় বাণিজ্য মেলা, পণ্য প্রদর্শনী ও অস্থায়ী বাজার আয়োজন বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ এবং নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা এবং দুপুর ১২টায় পুলিশ কমিশনারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. এনামুল হক স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সিলেট মহানগরের সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী সাজু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, প্রচার সম্পাদক ও আল হামরা শপিং সিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাজুল ইসলাম, আইনবিষয়ক সম্পাদক ও এলিগ্যান্ট শপিং মল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির, অফিস সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসাইনসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া বিভিন্ন মার্কেট কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেট নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজারের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
তারা বলেন, বাণিজ্য মেলা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশীয় পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনাকারী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, ঘন ঘন স্থানীয় মেলা আয়োজনের ফলে মেলা প্রাঙ্গণে কর-ভ্যাট ও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন অস্থায়ী স্টলে পণ্য বিক্রি করা হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, কর-ভ্যাট ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করে ব্যবসা পরিচালনাকারী স্থায়ী ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন নামে স্থানীয় মেলা, বাণিজ্য মেলা, পণ্য প্রদর্শনী ও অস্থায়ী বাজার আয়োজনের প্রবণতা বেড়েছে। এতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। পাশাপাশি ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় মেলা আয়োজনের কারণে যানজট, জনসমাগম, শব্দদূষণ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মেলা পরিপত্র অনুযায়ী বিভাগীয় শহরগুলোতে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে বছরে একটি নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই। তবে এর বাইরে অনিয়ন্ত্রিত ও ঘন ঘন স্থানীয় মেলা আয়োজন বন্ধের দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপিতে তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—সিলেটে বছরে একটি নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজন, এর বাইরে স্থানীয় মেলা, অস্থায়ী বাণিজ্য মেলা ও পণ্য প্রদর্শনী বন্ধ রাখা, মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন এবং নতুন মেলার অনুমোদনের আগে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের মতামত গ্রহণ, অনুমোদনহীন ও অনিয়ন্ত্রিত মেলার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, যানজট ও জননিরাপত্তা বিবেচনায় মেলা আয়োজনের বিষয়ে স্থায়ী নির্দেশনা এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ঘন ঘন মেলা আয়োজন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, তাদের এ দাবি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট মেলা আয়োজকের বিরুদ্ধে নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা, সুশৃঙ্খল বাণিজ্যিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং নগরীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল রাখাই তাদের দাবির মূল উদ্দেশ্য।
তারা দাবিগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




