মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য সরকারি হাসপাতালে আসা মানুষকে যেতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে বাড়ছে চিকিৎসার ব্যয়। বাড়তি চাপ পড়ছে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা এক্স-রে মেশিনটি অ্যানালগ। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্টও নেই। ফলে মেশিন থাকলেও নিয়মিত সেবা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে সনোলজিস্ট চিকিৎসক না থাকায় বন্ধ রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও।
সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, কোমরের ব্যথা, পেটের সমস্যা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে এসেছেন রোগীরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেকেই জানতে পারছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সেবা বন্ধ। ফলে তাদের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন থেকে এক্স-রে সেবা বন্ধ। অন্যদিকে সনোলজিস্ট চিকিৎসক না থাকায় প্রায় তিন মাস ধরে আলট্রাসনোগ্রাফি সেবাও বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন রয়েছে। প্রায় ১২ বছর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি এক্স-রে মেশিনও দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব যন্ত্র এখন রোগীদের কাজে আসছে না।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্র্যাকের একটি প্রকল্পের আওতায় একজন টেকনোলজিস্ট কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে সেই টেকনোলজিস্টও নেই। ফলে এক্স-রে সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে হাজারও রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের বড় একটি অংশ নিম্ন আয়ের ও সাধারণ পরিবারের। এক্স-রে করাতে এসে সেবা না পেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় রোগীদের। তেমনই এক রোগী বলেন, প্রাইভেট চিকিৎসকের কাছে গেলে অনেকগুলো পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে সব পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না। সরকারি হাসপাতালে এসব সেবা পেলে আমরা খুবই উপকৃত হতাম।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে আলট্রাসনোগ্রাফি বিভাগ বন্ধ পাওয়া আরেক রোগীকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে বলা হয়। ওই রোগী বলেন, হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর জন্য এসেছিলাম। পরে বাইরে থেকে করাতে হয়েছে। এতে বেশি টাকা খরচ হয়েছে। আমাদের মতো মানুষের জন্য এই অতিরিক্ত টাকা জোগাড় করাও কষ্টকর।
স্থানীয় এক চা-শ্রমিক বলেন, কয়েক দিন আগে কোমরের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসে জানতে পারি এক্স-রে বন্ধ। পরে শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এক্স-রে করিয়েছি। সরকারি হাসপাতালে করলে খরচ কম হতো।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে টেকনোলজিস্ট ও সনোলজিস্ট চিকিৎসকসহ বেশ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে যে এক্স-রে মেশিনটি রয়েছে, সেটি অ্যানালগ। সনোলজিস্ট চিকিৎসক, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের পূর্ণাঙ্গ এক্স-রে সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




