ছবি:সংগৃহীত
সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে আমরা সাম্যের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। এ দেশেই আমাদের জন্ম, এ দেশকেই আমরা ভালোবাসি। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে একটি সম্প্রীতির দেশে পরিণত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিরাই বড়বাড়ি মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে এবারের দুর্গাপূজা অত্যন্ত সুন্দর ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। তবে গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অতীতে তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার চেষ্টা করেছে। অথচ তাদের শাসনামলেই এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনকল্যাণ যুব সংঘের উপদেষ্টা দ্বীপ প্রদীপ মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন পূজা উদযাপন পরিষদ দক্ষিণ সুরমা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. নিখিল মালাকার ও মোগলাবাজার থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাশ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, পূজা উদযাপন পরিষদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক সভাপতি ও জেলা কমিটির সদস্য শৈলেন কুমার কর, মোগলাবাজার থানা শাখার সভাপতি মনমোহন দেবনাথ, দক্ষিণ সুরমা থানা শাখার সভাপতি দিপংকর দাস এবং মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক নন্দন চন্দ্র পাল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল দর্শনও यही। বিএনপি সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ পূর্ণ নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ করেন রতিন্দ্র মালাকার রিংকু।
এ সময় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন অপন দাস, অরিন্দম দাশ, পিনাক কর, বাবলু দাস, অখিল সরকার, সুবল দেবনাথ, সঞ্জয় দাস, শান্ত চন্দ্র মালাকার, মিন্টু দাশ, জনার্ধন চক্রবর্তী মিন্টু, সিবুল দাস, রাজকুমার পাল রাজু, চন্দ্র শেখর দে চপল, নিরঞ্জন দে বাবুল, হাসি রানী কর, অঞ্জন সরকার, অসীম দেব, বিভাস দাস, পঙ্কজ চন্দ, অপু ঘোষ, মুন্না চক্রবর্তী ময়না, জয়ন্ত গোস্বামী, তপন বর্মন, রনি কুমার মল্লিক, বাপ্পা দাস, কিরন্ময় পাল, রাকেশ দাশ, নীলমণি কর, ভানু চন্দ্র পাল, পিংকু দাস, হিরা মালাকার, বিতুষ কর ও অজিত দাস প্রমুখ।
বিজয়া পুনর্মিলনীর এ আয়োজনে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মূল লেখায় থাকা “মূল দর্শনই হচ্ছে এটি” বাক্যটি ভাষাগতভাবে সংশোধন করা হয়েছে। প্রকাশের আগে বক্তাদের নাম ও পদবি একবার যাচাই করে নেবেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




