সিলেটসহ দেশের কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে কারা অধিদপ্তরের ৭ দফা নির্দেশনা
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

৯০ শতাংশ নির্দেশনা বাস্তবায়ন, সুফল মিলবে ৩-৪ মাসে

সিলেটসহ দেশের কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে কারা অধিদপ্তরের ৭ দফা নির্দেশনা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭/১১/২০২৬ ১২:৩৯:১৮ পূর্বাহ্ন

সিলেটসহ দেশের কারাগারে নিরাপত্তা জোরদারে কারা অধিদপ্তরের ৭ দফা নির্দেশনা

ছবি:সংগৃহীত


সিলেটসহ দেশের সব কারাগারে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাত দফা কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে কারা অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনার প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নির্দেশনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশের কারাগারগুলো নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব পদক্ষেপের ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারগুলোতে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাহীনতা এবং প্রচলিত নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কারা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই বিশেষ এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের সাত দফা নির্দেশনা

কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় লক-আপের পরবর্তী কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লক-আপের পর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে।

কারাগারগুলোতে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনে পৃথক মনিটরিং কক্ষ স্থাপন এবং প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রহরীদের দায়িত্বস্থল থেকে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত দায়িত্বস্থল ত্যাগ করলে তাৎক্ষণিক লিখিত প্রতিবেদন তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলা বা অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা, প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করা কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

বারবার দায়িত্বে অবহেলা করা প্রহরীদের জন্য পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রয়োজনে অথবা অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলি কিংবা বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

বৃষ্টি, বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রহরীদের নিজ নিজ নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ নির্দেশনায় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শন জোরদারের কথা বলা হয়েছে। এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তা চৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রহরীদের দায়িত্ব পালন সরাসরি যাচাই করতে হবে।

গত আগস্টে জারি করা এসব নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছিল, কারাগারের অভ্যন্তরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই নিরাপত্তার ঘাটতি দূর করা, দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

সম্পাদনা নোট: সিলেটকে শিরোনাম ও ভূমিকায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দেশনাগুলো দেশের সব কারাগারের জন্য প্রযোজ্য—সিলেটের কারাগারে বিশেষ কোনো নতুন নির্দেশনা জারি হয়েছে, এমন দাবি করা হয়নি। প্রকাশের আগে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি যাচাই করলে স্থানীয় সংবাদমূল্য আরও বাড়বে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসায় অনন্য অবদান রাখছে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ
সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
রবীন্দ্রনাথের সিলেট সফর ছিল ঐতিহাসিক: সিসিক প্রশাসক
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখতে গেলেন মন্ত্রী মুক্তাদির ও সিটি প্রশাসক কাইয়ুম
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বন্ধ কারখানা সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে হবে
জৈন্তাপুর মিনি সুইজারল্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাবের টি-১২ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিকরা
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আরিফুল হক চৌধুরী
সিলেটে যুবলীগের মিছিল থেকে আ/টক ১২ জন
শাল্লায় পুরুষশূন্য ৪০ বাড়িতে ৩ দিন ধরে ভাঙ/চুর, লু/টপাট
জনস্বার্থে নগরের সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: সিসিক প্রশাসক