শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকতা পেশায় দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ‘সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক-২০২৬’ নির্বাচিত হয়েছেন সোনাপুর মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক এমদাদুল হক মিলন। তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃতী সন্তান।
এমদাদুল হক মিলন শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় সোনাপুর মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-সহকর্মী, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন এমদাদুল হক মিলন। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহজ, কার্যকর ও আনন্দময় করতে তিনি বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রয়োগ করে আসছেন। শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পাঠদানের ভিন্নধর্মী কৌশলের কারণে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন।
শিক্ষার্থীদের সহজভাবে ইংরেজি শেখানোর জন্য তাঁর রচিত ‘ডাইনামিক ইংলিশ গ্রামার’ এবং সহজে ইংরেজিতে কথা বলার জন্য ‘ডাইনামিক স্পোকেন ইংলিশ’ বই বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের পরামর্শমূলক বিভিন্ন লেখা জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর একটি প্রবন্ধ লন্ডন থেকেও প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
করোনা মহামারির সময় সারাদেশে যখন শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল, তখন তিনি অনলাইনে প্রায় শতাধিক ক্লাস পরিচালনা করেন। এ উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্কুল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এমদাদুল হক মিলন। দেশে-বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘কানেক্টিং ক্লাসরুম’ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক স্কুল অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের কাছ থেকে তিনি ওই পুরস্কার গ্রহণ করেন।
২০২২ সালের বন্যার সময় বাংলাদেশ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বন্যাদুর্গত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কাজে বেলটা সিলেট চ্যাপ্টার ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠন রোটার্যাক্ট ইন্টারন্যাশনালসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নিজ এলাকা ও কর্মস্থলের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে আসছেন। পাশাপাশি স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহের উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন।
শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে এমদাদুল হক মিলন বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সামাজিক শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মী শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতায় ভবিষ্যতে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
জৈন্তাবার্তা/আরআর




