ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিক্ষা ও উন্নয়নবঞ্চিত হবিবনগর এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে যাত্রা শুরু করেছে ‘ইছরাক আলী এন্ড শায়রুননেছা প্রাথমিক বিদ্যালয়’। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় হবিবনগর এলাকায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও সমাজসেবক দুলদুল বারী বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দুলদুল বারী। শিক্ষক সাইদুর রহমান সাঈদের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এম এ কাহার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া বক্তব্য দেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সুফি মিয়া, সালামত মিয়া, ঝুমন মিয়া ও এবাওদুর রহমান হামজাসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার এই প্রান্তিক এলাকার সিংহভাগ শিশু দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এমন এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা স্থায়ী সদকায়ে জারিয়ার কাজ।
বক্তারা জানান, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দুলদুল বারী গত দুই বছর ধরে সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে একটি ভাড়া করা ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শিশুদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে তিনি নিজের ১২ শতক জমি বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের যাবতীয় পরিচালনা ব্যয়ও নিজেই বহন করছেন।
তারা বলেন, প্রবাসে থেকেও নিজ জন্মভূমির সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য দুলদুল বারীর এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত এলাকার শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে সমাজের বিত্তবান ও সুহৃদ ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে অবহেলিত জনপদের শিক্ষার চিত্র বদলে যাবে।
আলোচনা সভার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে নির্মাণাধীন বিদ্যালয়ের সফলতা, প্রতিষ্ঠাতা দুলদুল বারীর প্রয়াত বাবা-মায়ের রুহের মাগফিরাত এবং এলাকাবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাসমিনা আক্তার। এর আগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা আক্তারের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




