যাদুকাটা-১ ও ২ বালুমহালে বালু উত্তোলন তিন মাসের জন্য স্থগিত
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ AM

বালু উত্তোলনে নদীভাঙন, হুমকিতে গ্রাম-বসতি ও স্থাপনা

যাদুকাটা-১ ও ২ বালুমহালে বালু উত্তোলন তিন মাসের জন্য স্থগিত

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯/০৯/২০২৬ ১১:২১:৫৮ PM

যাদুকাটা-১ ও ২ বালুমহালে বালু উত্তোলন তিন মাসের জন্য স্থগিত

ছবি:সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার আলোচিত যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা স্মারকের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) একটি রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলমগীর শাকের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, হাইকোর্টের আদেশের পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

রিটে গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি স্মারককে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ওই স্মারকের মাধ্যমে তাহিরপুরের তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের স্বত্বাধিকারী নাসির মিয়াকে ‘ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার’ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলা ১৪৩৩ সালের অবশিষ্ট সময়ের জন্য যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীর অভিযোগ, একই বালুমহালের ইজারা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁকে বাদ দিয়ে শুধু নাসির মিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার হিসেবে বিবেচনা করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটিকে বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী দাবি করে রিটে সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব তেঘরিয়া গ্রামের জিনান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ রুবেল আহমেদ আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দুই উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিবাদী করা হয়েছে। নাসির মিয়াকেও বিবাদী করা হয়েছে।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই স্মারক কেন আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া জারি করা হয়েছে এবং কেন সেটিকে আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না।

একই সঙ্গে স্মারকটির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ যথাযথভাবে সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে বলে রিটের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলনকে ঘিরে পরিবেশ ও নদীভাঙনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। অতীতে নদীর তীর কেটে এবং অনুমোদিত এলাকার বাইরে বালু উত্তোলনের কারণে তীরবর্তী গ্রাম, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকিতে পড়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নদীর তীরের কাছাকাছি গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের সময় নদীভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এতে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, বসতবাড়ি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয়রা।

এরও আগে ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বলা হয়েছিল, যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী দুই ডজনের বেশি গ্রাম বালু উত্তোলনের কারণে জমি ও বসতবাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে ছিল। অনুমোদিত এলাকার বাইরে ড্রেজার ব্যবহার এবং নদীর তীর কাটার অভিযোগও ওঠে। পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের যান্ত্রিক বালু উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

হুমকিতে মন্দির, সড়ক ও সেতু

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও যাদুকাটায় বালু উত্তোলনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের খবর এসেছে। ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়, নদীর তীরবর্তী কয়েকটি মন্দির, সড়ক ও সেতুসহ ৫০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অবকাঠামো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে শ্রীশ্রী অদ্বৈত জন্মধাম মন্দির কমপ্লেক্স ও পানতীর্থের ঘাটের কথাও উল্লেখ করা হয়।

একই সময়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনও করেন।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তদন্তে ২০২৫ সালের অক্টোবরে লাউড়েরগড় এলাকায় নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের তথ্য উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন ও নদীর পাড় কাটার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অতীতেও আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট যাদুকাটা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন ও নদীর পাড় কাটা বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই রিটে তাহিরপুরের মানুষের জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

ফলে এবার যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালে বালু উত্তোলনের অনুমতির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ নদী ও তীরবর্তী জনপদের দীর্ঘদিনের পরিবেশগত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন করে বালু উত্তোলনের অনুমতি সংক্রান্ত বিরোধে হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি; আদালত আপাতত সংশ্লিষ্ট স্মারকের কার্যকারিতা স্থগিত করে রুল জারি করেছেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
ঝিরির পানিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলল কাঠের বাটবিহীন ৭.৬২ মি.মি. রাইফেল
দূষণমুক্ত নগর গড়তে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন- সিসিক প্রশাসক
মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি
হাম ও উপসর্গে সিলেটে মৃ'ত্যু বেড়ে ১৮০
জগন্নাথপুরে মৎস্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি: “আমি কি আমার মেয়ের বিয়ে লাগাইসি যে সাংবাদিকদের বলতে হবে!”
চার বছরেও চালু হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রানীগঞ্জ সেতু-সড়ক
আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার সব স্তরের শিকড়- সিসিক প্রশাসক
শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে, পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে : এমপি নাসির উদ্দীন আহমেদ