সংগৃহীত
ঘানার রাজধানী আক্রায় অনুষ্ঠিত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের (এমএনএফ) ৭ম বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় পুষ্টিসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল পরিবেশের প্রেক্ষাপটে পুষ্টি’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুষ্টি, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যব্যবস্থা ও উন্নয়ন খাতের গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং উন্নয়ন সহযোগীরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী প্যানেল আলোচনায় ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের সঙ্গে অংশ নেন আলিকো ড্যাঙ্গোটে ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর অব হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন ড. ফ্রান্সিস আমিনু, ঘানায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও ইইউ ডেলিগেশনের প্রধান রুনে স্কিনেবাখ এবং আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এএফডিবি) এগ্রিকালচার অ্যান্ড অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের লিড পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন ম্যানেজার ফিলিপ বোয়াহেন। প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন নগে ব্রাউয়ার। প্যানেল আলোচনায় ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, পুষ্টিকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বিত করার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ঘাটতি নেই; এটি মূলত কোনো কারিগরি সমস্যাও নয়। কৈশোরকালীন পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতি প্রতিরোধ, মাতৃপুষ্টি, গর্ভাবস্থায় যথাযথ পুষ্টি, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্টেশন, মাতৃদুগ্ধপান, পরিপূরক খাবার এবং জীবনের প্রথম এক হাজার দিনে কার্যকর পুষ্টি কার্যক্রম সম্পর্কে ইতোমধ্যে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে।তিনি বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলো- দেশগুলোতে এমন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও টেকসই অর্থায়ন আছে কি না, যার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলে পুষ্টিসেবাকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃ, নবজাতক ও শিশুসেবার সঙ্গে একই ব্যবস্থায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।ড. হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মানুষের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে না সাজিয়ে পৃথক পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিচালনা করা হয়েছে। পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, টিকাদান ও শিশুসেবা প্রায়ই পৃথক কর্মসূচি, অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং সেবাদান কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অথচ এসব সেবার প্রয়োজন একই নারী ও একই পরিবারের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে।
তিনি বলেন, একজন কিশোরীর প্রয়োজন পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ; প্রজনন বয়সে প্রয়োজন পরিবার পরিকল্পনা ও গর্ভধারণ-পূর্ব সেবা; গর্ভাবস্থায় প্রয়োজন মানসম্মত প্রসবপূর্ব সেবার পাশাপাশি পুষ্টি মূল্যায়ন, খাদ্যবিষয়ক পরামর্শ, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা। প্রসবের পর একই নারীর প্রয়োজন মাতৃপুষ্টি, মাতৃদুগ্ধপান সহায়তা, পরিবার পরিকল্পনা ও নবজাতকের সেবা। এসবকে পৃথক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জীবনচক্রভিত্তিক একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখতে হবে।বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের কথা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সরকার চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মূল ভিত্তি হচ্ছে একটি শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পুষ্টি কোনো পৃথক বা অতিরিক্ত সেবা নয়; বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অপরিহার্য অংশ।
তিনি জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং প্রতিটি শহুরে ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার ও কমিউনিটিকে আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে প্রায় এক লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।ড. হায়দার বলেন, এই স্বাস্থ্যকর্মী ও মিডওয়াইফরা শুধু নির্দিষ্ট একটি সেবা দেবেন না; বরং কিশোরী ও নারীদের পুষ্টি ও প্রজনন স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, প্রসবোত্তর সেবা, মাতৃদুগ্ধপান এবং নবজাতক ও শিশুর পুষ্টি পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ফোরামের ৭ম বৈশ্বিক সম্মেলন ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। সম্মেলনে পুষ্টি, খাদ্যব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং পরিবর্তিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে অপুষ্টি মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, নীতি ও বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




