ছবি:সংগৃহীত
সিলেটে প্রবাসীদের জন্য পৃথক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধাসংবলিত একটি বিশেষ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও প্রবাসীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার জেলা পর্যায়ে জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটি গঠন ও কার্যক্রম শুরু করেছে। সিলেট বিভাগের চারটিসহ সব প্রবাসী অধ্যুষিত জেলায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এ কমিটি কাজ করবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে সিলেট মহানগরের দরগাহ গেইট এলাকার একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে ‘এনআরবি বিজনেস নেটওয়ার্ক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিজনেস, নেটওয়ার্কিং ও কানেকশনস’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটি নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণসংক্রান্ত সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় করবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আগামীকাল (রোববার) সিলেট জেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসককে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রবাসী অধ্যুষিত জেলাতেও এ কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ডের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান সরকার প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ কার্ড চালু করছে। এ কার্ড অন্য সাধারণ কার্ডের মতো হবে না। এতে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীদের নিয়ে যতটা ভাবছে এবং তাঁদের কল্যাণে একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়নের দিকে এগুচ্ছে, অতীতে কোনো সরকার এভাবে প্রবাসীদের নিয়ে ভাবেনি।
সিলেটে প্রবাসীদের জন্য আলাদা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।
‘ইউকে এনআরবি সোসাইটি’র পরিচালক এম আহমদ জুনেদের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক ওয়েস খসরু ও সিলেট বেতারের ঘোষক রুহেনা সুলতানা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (SWCCI) পরিচালক সামা হক চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক পরিচালক ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহ-সভাপতি হিজকিল গুলজার এবং সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ।
ব্যতিক্রমী এ আয়োজন প্রবাসী ও দেশের ব্যবসায়ীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সভায় প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সংযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন আলোচকরা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




