ছবি:সংগৃহীত
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনা বলেছেন, বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলায় শিক্ষার হার ও শিক্ষার্থীদের পাসের হার আশানুরূপ নয়। এ অঞ্চলে শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ অভিভাবকদের অসচেতনতা। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নে দারুল উলুম ইসলাহুল বানাত ফাজিল মাদ্রাসার তিনটি নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। নতুন ভবনগুলোর মধ্যে একটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস রয়েছে। পরে দুপুরে উমরপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া হাজী আব্দু মিয়া কলেজে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন ও বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
এমপি তাহসিনা রুশদী লুনা বলেন, সন্তান জন্মের পর থেকেই অনেক অভিভাবক মনে করেন, একটু বড় হলে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে উপার্জনের কাজে যুক্ত করবেন। ফলে সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ছেলে-মেয়েরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কি না, ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কি না, সেদিকে অনেক অভিভাবকের নজরদারি থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় এ অঞ্চলে শিক্ষার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দিলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া, পড়াশোনার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশের খোঁজখবর রাখতে হবে। শিক্ষার হার ও পাসের হার বাড়াতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার অন্যতম অঙ্গীকার ছিল শিক্ষার উন্নয়ন। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১০০ জন শিক্ষককে সম্মাননা দিয়েছেন। এটি শিক্ষকদের জন্য বড় প্রাপ্তি ও স্বীকৃতি।
এমপি লুনা বলেন, সরকার শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরে শিক্ষার হার এবং পাসের হার বাড়াতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সকালে দারুল উলুম ইসলাহুল বানাত ফাজিল মাদ্রাসার কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যাপক মাওলানা আহমদ আলী হেলালী। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক হুমায়ূন রশিদ শফি, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লাহিন হোসেনসহ স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা।
অন্যদিকে, দুপুরে মোল্লাপাড়া হাজী আব্দু মিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন ও বই বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিকী ও কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক কয়েছ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন।
এতে বক্তব্য দেন ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী, উমরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা চেরাগ আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান আহমদ, অভিভাবক আহবাবুল হোসেন আহবাব, কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক রুবিনা আক্তার এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আসাদ উল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল জিলু, সংসদ সদস্যের একান্ত সচিব ময়নুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম ও কামরুল ইসলাম, যুবদল নেতা ইসলাম উদ্দিন ও রেদওয়ান আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রকিব আলী, ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং প্রধান শিক্ষক মহরম আলী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শাহাদাত হোসেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




