তাহসিফ হ ত্যা মামলায় ফের ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন

তাহসিফ হ ত্যা মামলায় ফের ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ০৫:৩৯:৫০ অপরাহ্ন

তাহসিফ হ ত্যা মামলায় ফের ৩ দিনের রিমান্ডে দীপ

সংগৃহীত


বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামি দীপের ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনাটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার ঘটনায় মৃত ডিসিস্ট তাহসিফ সাউরি ঘটনার আগে তদেন্ত সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ ও জেরিকা তাসনিম দিশার সঙ্গে ঘোরাফেরাসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছে। এ যাবৎ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে প্রকাশ পায়, সাউরিকে মৃত্যুর আগে শেষ বারের মতো তাদের সাথে দেখা গেছে। এই অবস্থায় আসামিরা কোনো না কোনোভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে মর্মে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামিদের চিহ্নিত করতে আরও সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে ফের রিমান্ডের নেওয়ার ৮ কারণ তুলে ধরা হয়। কারণগুলো হলো ১. সংগৃহীত বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ক্লোজড সার্কির ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে দীপের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষণ করা। ২. ভিকটিমের সাথে দীপ ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ থাকার সময়, কিছু সময়ের জন্য অন্যত্র সরে গিয়ে ১৫/২০ মিনিট কোথায় যোগাযোগ করেছেন তা পর্যালোচনা করা। ৩. ভিকটিম ও দীপসহ অন্যান্যদের ব্যবহৃত প্রাসঙ্গিক মোবাইলের সিডিআর সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা। ৪. মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন। ৫. অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেপ্তার ও শনাক্ত। ৬. আলামত উদ্ধার। ৭. মোটিভ অব মার্ডার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। ও ৮. হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ করার লক্ষ্যে।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। দীপের পক্ষে আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড নামঞ্জুর চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে প্রসিকিউটর সুমন বলেন, ‘গত ২৭ অক্টোবরের ঘটনা। তার সহকর্মী বা বন্ধু যে নদীতে পড়ে গেছে, হারিয়ে গেছে, তার কি হয়েছে না হয়েছে এ বিষয়ে উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি। বিষয়টি কাউকে জানানওনি। রিমান্ডে তিনি ভাসা ভাসা তথ্য দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানার জন্য তাকে আবারও সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। ঘটনার সাথে অন্য কোনো রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত কি না। আমরা এনায়েত করিম চৌধুরী, ভারতীয় নাগরিক রবিউলকে ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের মোটিভ আর এই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার পর মোটিভ একই মনে হচ্ছে। এ আসামি যেমন ভাসা, ভাসা তথ্য দিচ্ছেন, তারাও একই রকমভাবে তথ্য দিয়েছিল। আমরা সন্দেহ করি, দেশি ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করতে পারে। তার সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি।’ 

সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাবা কে এম এনায়েতুল করিম গত ৩০ অক্টোবর রাতে উত্তরখান থানায় মামলা করেন। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। 

তাহসিফ সাউরি গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হন। দীপ গত ২৯ অক্টোবর পুলিশকে বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যেই শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেন দীপ।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা