ছবি: নিজস্ব
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নে হারাতৈল রাঙ্গারাই গ্রামে শিশুর মলত্যাগ নিয়ে আপন চাচাতো ভাইয়ের হাতে নুরুল ইসলাম হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি বাবুল আহমদ ও তার স্ত্রী আছিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত দু’জনকে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
জানা যায়, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়ালের দিক নির্দেশনায় থানার এসআই শৈলেশ চন্দ্র দাস, শাহ আলম ও এএসআই আরেফিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোর রাতে জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হর্ণি গ্রাম থেকে বাবুল আহমদ ও তার স্ত্রী আছিয়া বেগমকে আটক করতে সক্ষম হয়।
বিশ^স্থ সূত্রে জানা যায় বাবুল আহমদ ও তার স্ত্রী আছিয়া বেগম তাদের এক আত্মীয় মাধ্যমে রাতের আধাঁরে তারা ভারতে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেছিল। এ সময় সীমান্তের একটি পাহাড়ের চূড়া থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বাবুল আহমদের পুত্র মুমিন আহমদ এখনও পলাতক রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে উপজেলার হারাতৈল রাঙ্গারাই গ্রামে। নিহত নুরুল ইসলাম উরফে সানা (৫০) স্থানীয় চতুল বাজারের একজন দিনমজুর ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নুরুল ইসলামের সঙ্গে চাচাতো ভাই বাবুল আহমদের বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন নুরুল ইসলামের এক শিশু সন্তান বাড়ির উঠানের সীমানায় মলত্যাগ করলে ক্ষুদ্ধ হয় বাবুল আহমদ গং। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাবুল আহমদ, তার ছেলে মুমিন আহমদ সহ পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নুরুল ইসলামের বসত ঘরে ঢুকে হামলা হামলা চালায়। এতে নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রিনা বেগম সহ পাঁচ সন্তান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নুরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে রিনা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




