ছবি: নিজস্ব
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, সরকার একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে যে কারণে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে জুলাই সনদের আইনীভিত্তি, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবীতে সিলেট মহানগর জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কারবিহীন নির্বাচন জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বানচাল আমরা করতে চাই না, যারা সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করছে আর পিআর চায় না তারাই প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন বানচাল করতে চায়। পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে গণভোটের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ফ্যাসিবাদের শাসনামলে যা ঘটেছে বর্তমান শাসমানলে সরকার না করলেও কোনো কোনো দল চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার কঠোর হস্তে দমনের কথা থাকলেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, সংস্কার জামায়াতের দলীয় এজেন্ডা নয়, সংস্কার জনগণের আকাঙ্ক্ষা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
৫ আগস্ট বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সরকারের দেওয়া জুলাই ঘোষণা পত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সেই ঘোষণা পত্রে জুলাই স্পিড ধারণ করার পরিবর্তে বিশেষ জাতি-গোষ্টির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। ঘোষণা পত্রে শাপলা চত্বরের গণহত্যার কোনো উল্লেখ নেই, পিলখানায় সেনা হত্যার কথা উল্লেখ নেই, শেখ হাসিনার আমলের গুম-খুন ও জুডিসিয়ালের কথা উল্লেখ নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওয়াদা করেছিল জুলাই সনদ হবে ঐক্যমতের ভিত্তিতে। ৮৪টি বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে দুই-একটি দল হস্তক্ষেপ করেছে। এই সরকারের ভূমিকা আমরা নিরপেক্ষ দেখিনি।’
সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যেই প্রতিশ্রুতি দেশবাসীকে দিয়েছিল জুলাই চেতনার ভিত্তিতে এবং যে জনআকাঙ্খা তৈরি হয়েছে সেই আকাঙ্খা হচ্ছে বাংলাদেশকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, ফ্যাসিবাদের আমলে যা ঘটেছে তা বর্তমান সরকারের শাষনামলে কোনো কোনো দল নিজের দলের লোকদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। বিভিন্ন বাজার-হাট দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীতে লিপ্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে বর্তমান সরকার তার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
ঐক্যমত কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ তিন মাস পর এখনও সংস্কারের জন্য বৈঠকের পর বৈঠক হচ্ছে কিন্তু বিশেষ একটি দলের হস্তক্ষেপে সংস্কার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।’
পিআর পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা জুলাই চেতনাকে স্বীকার না করে সংস্কারে বাধা প্রদান করতে চায় তারাই প্রকৃতভাবে নির্বাচন বানচাল করতে চায়। দুই একটি দল পিআর পদ্ধতি মানেন না, সংস্কার পদ্ধতিও মানেন না এবং আইনি ভিত্তিও তারা চান না তাহলে ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন কিসের ভিত্তিতে করবেন। সেই শেখ হাসিনা আমলের নির্বাচন, দিনের ভোট রাতে দেওয়ার নির্বাচন, ২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতার নির্বাচন, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন। এই নির্বাচন আর হবে না। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন চান, তাহলে সংস্কারকৃত আইনের ভিত্তিতে নির্বাচন দেন। পুরনো পদ্ধতির নির্বাচন বাতিল করেন।
হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামের সরকারের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রকে নতুন পথ দেখাবো। বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাবে। এই আন্দোলন সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের হত্যাকারীদের বিচার করা হবে। দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে যারা ধ্বংস করে দিয়েছে সেই দুর্নীতিবাজদের বিচার করা হবে।’
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে, মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর যৌথ পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।
সমাবেশ শেষে রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে বিশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে মহানগর ও বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড-ইউনিটের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
মিছিল পূর্ব রেজিস্ট্রারি মাঠের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মাসুক আহমদ, বিশ্বনাথ উপজেলা আমীর নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এর মহানগর সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সভাপতি এডভোকেট আলিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শাহীন আহমেদ প্রমূখ।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




