ছবি: নিজস্ব
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দুই ধরনের নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করে। প্রধান ফটক, ভিসি বাংলো ও টিচার্স কোয়ার্টারে কর্মরতরা বেসরকারি কোম্পানির অধীনে নিয়োজিত হলেও আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন ও টিলা এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীরা।
ক্যাম্পাসের নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া টিলায় নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের হাতে নেই কোনো কার্যকর নিরাপত্তা সরঞ্জাম। রয়েছে শুধু একটি বাঁশি, যার শব্দ ২০০ মিটার দূর থেকেও শোনা যায় না। বর্ষা মৌসুমে তাদের বৃষ্টিতে ভিজে দায়িত্ব পালন করতে হয়, কিন্তু ছাউনির কোনো ব্যবস্থা নেই। রাতে দায়িত্ব পালনের সময় ন্যূনতম টর্চলাইটও সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।এইদিকে টর্চ লাইট না থাকায় টিলায় দায়িত্ব পালনের সময় বিষাক্ত সাপের মুখোমুখি হতে হয়।
নিউজিল্যান্ড টিলা লোকালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে প্রায়ই বাইরের লোকজন মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অনিয়ম করে থাকে। বাধা দিলে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ কিংবা হামলার ঘটনাও ঘটে। অথচ তাদের আত্মরক্ষার জন্য একটি লাঠিও দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ লাঠি সরবরাহ করা হয়েছিল প্রায় আড়াই বছর আগে।রাতে শিয়াল আক্রমণ করলেও, শিয়ালের আক্রমণ ঠেকানোর মতো কিছু নাই।
তাদের দাবি, দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে যেন প্রাথমিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়, টিলায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং পর্যাপ্ত ছাউনি নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো: মোখলেছুর রহমান বলেন,"আমরা নিউজিল্যান্ড টিলা সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ১০টি ছাউনি নির্মাণের আবেদন করেছি, যার মধ্যে ৫টি অনুমোদিত হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে। আপাতত নিরাপত্তা সরঞ্জামের জন্য যথেষ্ট ফান্ড নেই,নতুন বাজেটও অনুমোদন হচ্ছে না, তবে টর্চলাইট সহ বেশকিছু সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তি হবে, সেখানে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি অন্যতম শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।"
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




