হাত বদলেই বাড়ে সবজির দাম
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ AM

হাত বদলেই বাড়ে সবজির দাম

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২/০৯/২০২৫ ০৩:৪৪:১২ PM

হাত বদলেই বাড়ে সবজির দাম

সংগৃহিত


সিলেট নগরীর ভেতরেই আড়ৎ। এই আড়তে সবজি আসে নগরীর লাগুয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকাগুলোর। এছাড়া কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ থেকেও টাটকা সবজি শহরে প্রবেশ করে। খুচরা বিক্রেতাদের কেউ টুকেরবাজার, কাজিরবাজার খেয়াঘাট কিংবা নগরীর সোবহানিঘাট সবজির আড়ৎ থেকে স্বল্প মূল্যে

নিয়ে বাসা-বাড়ি কিংবা হাটগুলোতে ও রাস্তার পাশে বিক্রি করেন। এই সবজি হাত বদলেই চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। সবজি বিক্রেতাদের হাত বদলানোর সাথে সাথে কেজি প্রতি ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্তও দাম বেশি রাখা হয়। মৌসুমী কিছু সবজির দাম হাতের নাগালে থাকলেও হাত বদল হলেই বাড়ছে দাম। বিশেষ করে গৃহিনীদের কাছে ফেরি করে বিক্রি করেন বেশি দামে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে সবজির দাম। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য দুর্ভোগের কারণ। বাজারে সবজির অভাব না থাকলেও সিন্ডিকেট, মনিটরিংয়ের অভাব এবং বৃষ্টিজনিত ক্ষতির কারণ দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয় বলে জানা গেছে।

রোববার সকালে এক সবজি বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিদনই বেড়ে চলেছে সবজির দাম। আর এখন আরও বেশী বাড়বে। কারণ জানতে চাইলে ওই সবজি বিক্রেতা বলেন, দুর্গাপূজা চলে আসছে। তাই বাজার এখন টান (বাড়তির দিকে)।

সিলেট নগরীর বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক সবজি কেজি প্রতি ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে আরও বেশি দাম বেড়েছে, বিশেষ করে টমেটোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিন্ডিকেট এবং বাজার মনিটরিংয়ের অভাবের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির দাম বেড়েছে দ্বীগুন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে টমেটো। পাইকারি বাজারে গত সপ্তাহে ১০০ টাকায় টমেটো পাওয়া গেলেও সপ্তাহ ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে তা ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে এবং খুচরা বাজারে তা বেড়ে গিয়ে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। 

কচুর মুকি পাল্লা (৫কেজি) পাইকারী বাজারে ২০০টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা কেজি ৫০-৬০ দরে বিক্রি হয়। যা পাল্লার হিসাবে কেজিতে ১০-২০টাকা বেশী দামে বিক্রি হয়। এর চেয়ে বেশী দামেও বিক্রি হতে দেখা যায় পাড়া মহল্লায় ফেরি করে সবজি বিক্রেতাদের। রোববার সিলেটের পাইকারি ও খুচরা বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ তথ্য পাওয়া যায়।

একইভাবে দাম বেড়েছে করলারও পাইকারি বাজারে করলার ৫কেজির পাল্লা ৪০০ টাকা বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। কাকরুলের দাম কেজি ১৫ টাকা বেড়ে কাকরুল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। মুলা খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ টাকায়। দাম বেড়েছে কাঁচামরিচের ও। 

সপ্তাহ ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ঝিঙ্গা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই ভাবে দাম বেড়েছে চিচিঙ্গা, বরবটি, পটল সহ অন্যান্য সবজির। 

লাল শাক আটি প্রতি ২০ থেকে ২৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু ও পেঁপে রয়েছে মোটামুটি ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। আলু পাইকারি বাজারে ১৫ টাকায় পাওয়া গেলেও খুচরা বাজারে তা ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে পাইকারি বাজারে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে, বিক্রেতারা বলছেন উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানিও কম হচ্ছে আর সেজন্যই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব পদের সবজি।

বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে আড়তে সবজি কম আসায় সবজি কেনা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এমন বাস্তবতায় বাজার মনিটরিং এর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলছেন সবজি বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য সিলেটের প্রশাসনকে জরুরি ভাবে ভূমিকা নিতে হবে।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা