সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণে শিশু—কিশোরদের কুরআন, নামায ও দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে তাদের ধর্মীয় জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে অবদান রাখছে বায়তুল আমান নিশ্চিন্ত। মৌলভী আবুল হুসাইন ধলা মেসাব (রহ.) এর পরামর্শে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকেই এখানে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন হাফিয নোমান মাহফুজ। সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে রয়েছেন জাকারিয়া আহমদ। ছাত্র-ছাত্রীরা এখান থেকে দ্বীনের জরুরি বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংখ্যা ৩ জন। প্রতিদিন বাদ ফজর থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে কচিকাঁচাদের সূরা, দোয়া—দুরুদ, আমপারা ও কুরআন শরীফের পাঠদান।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, মক্তবটি পরিচালনায় রয়েছে নিজস্ব সিলেবাস ও বই। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ও মেধার বিকাশে রয়েছে নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা। পাশাপাশি দ্বীনদার শ্রেণির সহযোগিতায় দেওয়া হয় পুরস্কার।
তাদের মতে, এক সময় মক্তব ছিল আমাদের আবহমান বাংলার মুসলিম ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকালবেলা কোমলমতী শিশুরা কুরআনের শিক্ষা অর্জন করতে দল বেঁধে মক্তবে যেত। কিন্তু বর্তমানে সকালবেলার স্কুল এবং নানামুখী কারণে ঐতিহ্যের এই প্রতীক গুরুত্ব হারাচ্ছে। তাই ঐতিহ্যবাহী ধারাকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতে গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন ও লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী নিশ্চিন্ত গ্রামের বায়তুল আমানে চলছে সকালের মক্তবটি।
মক্তব কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে নির্বাচিত সূরা, আয়াত মুখস্থ ইত্যাদি ভাগে শিক্ষার্থীরা কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করছে। ২০২১—২০২৪ সাল পর্যন্ত কুরআন শরীফ পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে ৫৬ জন শিক্ষার্থী। এখানে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি শেখানো হয় মৌলিক আক্বীদা, নামাজ, রোজাসহ ফরজ ইবাদতের বিধানসমূহ, মাসনূন দো’আসমূহ, প্রশ্নোত্তরে ইসলামের ইতিহাস ইত্যাদি।
এই মক্তব কার্যক্রমের রয়েছে তিনটি ধাপ। প্রথম ধাপ সাবাহি মক্তবে যুবানী, ক্বায়দা, সুরা ও নাযারা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পড়ে। এখানে ক্বায়দা ও কুরআনের পাশাপাশি দ্বীনের বুনিয়াদী বিষয়গুলো পড়ানো হয়। দ্বিতীয় ধাপ মাশকুল কুরআনে কুরআন শরীফের শিক্ষার্থীরা পড়ে। যারা মক্তব শেষ করতে পারে, তাদেরকেই মূলতঃ এখানে সুযোগ দেওয়া হয়। তৃতীয় ধাপে আছে মাসব্যাপী ক্বেরাত কোর্স। এটি সব ধরনের সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য রমজান মাস ভিত্তিক শিক্ষা। এখানে ক্বায়দা ও কুরআনের পাশাপাশি দ্বীনের বুনিয়াদী বিষয়গুলো পড়ানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া আহমদ বলেন, নিজস্ব সিলেবাসে এখানে পড়ানো হয়। মক্তবের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়ছে। বাদ ফজর মাত্র এক—দেড় ঘণ্টা নিয়মিত পড়ে তাদের সন্তানরা দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো জানতে পারবে- এতেই তাদের ভরসা। যদি মসজিদে মসজিদে এই মক্তব চালু করা যেত, তাহলে প্রসারটা আরও অধিক হতো। চাইলেই ইসলামিক স্কুল বা মাদরাসা তৈরি করা সম্ভব হয় ন। কিন্তু সকালের মক্তব চালু করা অনেকটাই সহজ। আমার শতবর্ষী দাদা মৌলভী আবুল হুসাইন (রহ.) এর খুব ইচ্ছা যে মুসলমান যুবক ও বয়স্কদের মাঝে কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া হোক। সবাই যাতে শুদ্ধভাবে কুরআন শিখতে পারে, এর জন্য এলাকায় মক্তব বা কেন্দ্র সৃষ্টি করা হোক।
মক্তবের পরিচালক নোমান মাহফুজ জানান, প্রতিদিন বাদ ফজর থেকে এই মক্তবে পড়তে পারে শিক্ষার্থীরা। এখানে হিফজ নাযারা থেকে শুরু করে দ্বীনের বুনিয়াদী শিক্ষা গ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল ৭/৮ জন শিক্ষার্থী দিয়ে শুরু হয় বায়তুল আমান সাবাহি মক্তব নামে সকালের মক্তবটি। বর্তমানে প্রায় ৮০ জনের মতো শিক্ষার্থী এখান থেকে কুরআন ও দ্বীনের শিক্ষা নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা হয় নিজস্ব সিলেবাস। যুবানী, কায়দা, আমপারা, নাযারা বিভাগ অনুসারে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




