ফাইল ফটো
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের উপর হামলা এবং হলে অস্ত্র ও মাদক সম্পৃক্ততার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট ২০ জন শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া ২০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে (৪ সেমিস্টার ও ২ সেমিস্টার) বহিষ্কার করা হয়েছে। ১৫ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৮ জনকে সতর্ক করা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তকে অনেকে সাধুবাদ জানালেও অনেক শিক্ষার্থী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, শাস্তির তালিকা পক্ষপাতমূলক এবং প্রহসনমূলক। ছাত্রলীগের অনেক সদস্য সরাসরি জড়িত থেকেও বিচারের আওতায় আসেনি, অথচ আন্দোলন সমর্থনকারী কিছু শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছে, এ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং তারা রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।বহিষ্কৃত কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, আন্দোলন চলাকালে তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করলেও কিছু দিন পর নিজ শহরে চলে আসে, তবুও শাস্তির তালিকায় নাম এসেছে। কেউ কেউ বলছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়ে ব্যানার-প্লেকার্ড হাতে স্লোগান দেওয়া স্বত্বেও শাস্তি পেয়েছে। আবার অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেছে,ছাত্রলীগের রুমেই তাদের আসন বরাদ্দ আসে, আর্থিক কারণে তাদের ছাত্রলীগের রুম ছেড়ে মেসে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তাই ওই রুমে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না,কিন্তু তারা মাদক বা অস্ত্র সাথে কোনভাবেই সম্পৃক্ত না।অনেকে অভিযোগ করছে, একই হলে বা এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের চাপের কারণে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সমর্থন দেখাতে বাধ্য করা হয়েছিল।
একজন শিক্ষার্থী বলেন,"আমি ২০১ নম্বর রুমে ভর্তি হয়েছিলাম হলের প্রভোস্ট সেই রুমে ভর্তি না করে ২০২ এ ভর্তি করিয়েছে কিন্তু আমি এতদিন জেনে আসছি ২০১ নাম্বার রুমেই আমি ভর্তি এবং এই রুমেই আমি থাকতাম।হল আইডিতে আমার ২০১ নম্বর রুমে ভর্তিছিল । ২০২ এ অস্ত্র পাওয়া গেছে ফলে সে রুম থেকে আমাকে প্রশাসন বহিষ্কার করলো অথচ সেই রুমে আমি থাকিনি কোনোদিন।"আরেকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন,"আমি মাত্র সাড়ে তিন মাস হলে ছিলাম। শুরু থেকেই জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ফেসবুক পোস্ট করি, মশাল মিছিলে অংশ নেই। আর হলে যেই ইস্যুতে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিস্কৃত করা হইছে অস্ত্র ও মাদক মামলায়, অথচ আমি কিছু জানিই না। রুমের ডেস্ক গুলোতে আমার এক্সেস ছিলো না। আমি কখনো ১২৩ আবার ৪২৫ নং রুমে থাকতাম, মাঝে মাঝে হলে গেস্ট আসলে আমাকে বাইরের মেসেও কয়েকদিন থাকা লাগতো।
এরপর জুলাই আন্দোলনের ইস্যুতে আমি শুরুতেই আমার অবস্থান ক্লিয়ার করছি এবং প্রসাশনের কাছে প্রমান সহ ক্লিয়ার এক্সপ্লেনেশন ও দিছি। কিসের ভিত্তিতে আমাকে আজীবন বহিস্কৃত করা হলো? এটা কি প্রহসনের বিচার নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা,আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা চাইলে শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির কেউ হলে অবস্থান করেননি। শিক্ষার্থীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এজন্যই আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এখানে প্রক্টরিয়াল বডি শুধু সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করেছে, আসল সিদ্ধান্ত এসেছে সিন্ডিকেট মিটিং থেকে।
প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাজেদুল করিম বলেন, তারা সময় নিয়ে তদন্ত করেছেন এবং সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদের মধ্যে অনেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পেরেছেন। যারা প্রমাণ দিতে পারেনি, তারাই শাস্তি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, মব ক্রিয়েট করে সমাধান করা সম্ভব নয়, উপযুক্ত প্রমাণসহ আপিল করতে হবে। আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী সিন্ডিকেট মিটিংয়ে সেসব পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।চলমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপিল করলেই শাস্তি লঘু হবে না। যারা সম্পৃক্ত না থাকার যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারবে শুধু তারাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পাবে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছুটি শেষে প্রথম দুই থেকে তিন কার্যদিবসের মধ্যেই সম্মিলিতভাবে নেওয়া হবে।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




