‘যারা এতদিন নির্বাচন নির্বাচন করেছিল তারাই নির্বাচন ভণ্ডুলের পায়তারা করছে’
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১১:০২ PM

সিলেটের বিভাগীয় সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান

‘যারা এতদিন নির্বাচন নির্বাচন করেছিল তারাই নির্বাচন ভণ্ডুলের পায়তারা করছে’

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬/১২/২০২৫ ০৬:৫৬:৪৫ PM

‘যারা এতদিন নির্বাচন নির্বাচন করেছিল তারাই নির্বাচন ভণ্ডুলের পায়তারা করছে’

ছবি:নিজস্ব


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পুরনো ধাপে আছে। তারা এখন ভিন্ন সুরে কথা বলা শুরু করেছেন। জনগণের লাল কার্ড দেখানো থেকে বাঁচতে গিয়ে তারা নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়। প্রশাসনিক ক্যু করে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে সমমনা আট ইসলামী দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসলামি দলগুলোকে পরাশক্তির ভয় দেখাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমারা সব দেশেকে সম্মান জানাই। তবে দাদা গিরি বিশ্বাস করিনা। কেউ যদি দাদাগিরি দেখাতে চায় তবে তা আর মেনে নেওয়া হবে না।’’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা এতদিন নির্বাচন নির্বাচন বলে দেশকে অস্থির করে তুলেছিলেন, তাদের মুখে এখন ক্ষীণ স্বরে ভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। তারা বুঝে গেছেন—তাদের চলমান অপকর্মে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ভোটে লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে।’

এ সময় তিনি দাবি করেন, দেশের ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে গেছে, কিন্তু ফ্যাসিস্টের কালো ছায়া এখনো যায়নি। একদল চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য করে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে দ্বিগুণ উদ্যমে আরেক দল চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় জোটের বাইরে থাকা অন্য ইসলামি দলগুলোকেও আট দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান জামায়াত আমীর।

সমাবেশে ইসলামি আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, ‘‘যারা এতদিন নির্বাচন নির্বাচন করে মুখে ফেনা তুলেছে, এখন তারা বুঝতে পারছে জণগণ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারাই এখন নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘‘একটি পক্ষ একদলীয় শাসনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা হরণ করতে চায়। যারা জুলাই সনদের বিপক্ষে না ভোটের ক্যাম্পেইন করবে, জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।’’

এসময় জোটের শরিক দলগুলোকে নিজ দলের প্রতীকের পাশাপাশি জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ক্যাম্পেইন করার আহ্ববান জানন তিনি।

শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেন আট দলের নেতাকর্মীরা। দুপুরের আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠ।

সমাবেশে সঞ্চালনা করেন সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. নুরুল ইসলাম বাবুল। স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক ও মাওলানা আব্দুল বাসিত, ইসলামী ঐক্যজোটের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা