ছবি:সংগৃহীত
আজ ৬ ডিসেম্বর, বিয়ানীবাজার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের কবল থেকে মুক্ত হয়েছিল সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অমানবিক নির্যাতন ও ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটে এদিন। বিয়ানীবাজারবাসীর কাছে এটি গৌরবের, বেদনামাখা স্মৃতির এক ঐতিহাসিক দিন।
চূড়ান্ত যুদ্ধ ও মুক্তির প্রভাত
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা মুড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর এলাকায় পাক সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী তুমুল লড়াইয়ের মুখে মুক্তি সেনাদের আক্রমণে দিশেহারা পাক বাহিনী পিছু হটতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না পেরে পাক সেনারা বিয়ানীবাজার থানায় স্থাপিত তাদের ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়।
মুক্তিযোদ্ধারা স্থানীয় সংগঠকদের সঙ্গে নিয়ে থানা টিলায় উত্তোলন করেন লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা-ঘোষণা করেন বিয়ানীবাজার হানাদারমুক্ত।
বিয়ানীবাজারে পাক বাহিনীর নির্যাতন
মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়ে বিয়ানীবাজার ছিল পাক বাহিনী ও রাজাকারদের নির্মম নির্যাতনের কেন্দ্রবিন্দু। উপজেলায় শহীদ হন ১২৪ জন নিরীহ মানুষ।
কাঁঠালতলা বধ্যভূমি: এখানে কমপক্ষে ৬০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।দেশের একমাত্র প্রবাসী বাউল শিল্পী কমর উদ্দিনকেও কাঁঠালতলা বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়।
রাধু টিলা (বর্তমান স্মৃতি সৌধ): এখানে একই পরিবারের ১২ জনসহ প্রায় ৩০ জনকে একত্রে হত্যা করে পাক সেনারা।
সারপার টর্চার সেল: আটককৃতদের নৃশংস নির্যাতনের পর ৭ জনকে হত্যা করে সীমান্তবর্তী নওয়াগ্রামের গণকবরে পুঁতে ফেলা হয়।
ডাকবাংলো: সওজ ডাকবাংলোর রান্নাঘর ও কক্ষে অসংখ্য মানুষকে নির্যাতন করা হয়; রাজাকারদের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবতী ও নারীদের ধরে এনে ধর্ষণ করা হয়।
যুদ্ধশেষে গণকবর আবিষ্কার
মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ের পর মুক্তিযোদ্ধারা বিয়ানীবাজারে ৬টি গণকবর শনাক্ত করেন। এখনো এসব স্থানে শহীদদের স্মৃতি বহন করে আছে। ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




