ছবি:নিজস্ব
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় আমন মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রি ধান-১০৩ চাষ করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়ে খুশি উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আমন চাষিরা। এতে করে আগামী মৌসুমে দ্বিগুণ আবাদের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জৈন্তাপুর থেকে জানানো হয়, প্রতি বছরের ন্যায় চলতি ২০২৪-২৫ আমন মৌসুমে স্হানীয়, উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড এই জাতের আমন ধান চাষ করে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উফসি ব্রি ধান চাষে আগ্রহ করে তুলতে এবং এর ফলন ও সংগ্রহ নিয়ে সম্মুখ ধারণা দেয়া হয় কৃষকদের।
এর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পরিদর্শন ও কৃষি পরামর্শ প্রদান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রি ধান -১০৩ চাষে কম খরছে কম জমিতে অধিক ফসল লাভ ও আগাম ফসল উত্তোলনের বিষয়টি মাথায় রেখে স্হানীয় ও প্রান্তিক আমন চাষিদের ব্রি ধান -১০৩ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি ২০২৪-২৫ আমন মৌসুমে উপজেলার ৯৬ জন কৃষককে কৃষি অফিস থেকে আমন ধানের প্রদর্শনী দেয়া হয়। এ বছর অন্যান্য জাতের আমন ধানের পাশাপাশি ১৮০ হেক্টর জমিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চাষিরা ব্রি ধান -১০৩ এর আবাদ করেন। সাধারণত ব্রি ধান -১০৩ উফসি প্রজাতীর এর শীষগুলো লম্বা ও চিকন হয়ে থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিস আরো জানায় এটি একটি আগাম জাতের আমন ফসল। সাধারণত রোপনের ১২৮-১৩৩ দিনের মধ্যে ফসল কেটে ঘরে তুলা সম্ভব। কৃষি অফিস জানায়, ব্রি ধান -১০৩ বিঘা প্রতি ১৮/২০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। সে হিসেবে প্রতি হেক্টরে ৫ মেট্রিকটন ফসল পেয়ে থাকেন কৃষকরা। চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ১৮০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান -১০৩ এর চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বিঘা প্রতি ৫ মেট্রিকটন ধার্য হলেও তা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে হেক্টর প্রতি ৫.২০ মেট্রিকটন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। সেই হিসেবে পুরো উপজেলায় উফসি ব্রি ধান -১০৩ এর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৯৩৬ মেট্রিকটন ধান উৎপাদিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালেহ আহমদ বলেন, উফসি ব্রি ধান -১০৩ আগাম জাতের হওয়ার পাশাপাশি লম্বা,চিকন ও ফলন বেশী হওয়ায় চলতি আমন মৌসুম শুরুর পূর্বে কৃষকদের এই ধান ফলনে উদ্বুদ্ধ করা হয়। ফলনের মাত্র ১২৮-১৩৩ দিনে ফসল ঘরে তুলা সম্ভব থাকায় একই জমিতে পুনরায় রবিশস্য চাষ করার পুরো সুযোগ পেয়ে থাকেন চাষিরা। তিনি বলেন আমন মৌসুমের শুরু থেকে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে বীজতলা প্রস্তুতি, চারা রোপন পরামর্শ, রোগ বালাই ও পোকা আক্রমণ রোধে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও মৌসুমের শুরুতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রনোদনার আওতায় কৃষকদের মাঝে বীজ,সার,কীটনাশক প্রদান করা হয়েছে। তিনি আশাবাদী আগামী আমন মৌসুমে উফশি ব্রি ধান -১০৩ জাতের ধান দ্বীগুণ আকারে উপজেলায় চাষ করা হবে।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ন দিলদার বলেন, আবহাওয়া ও পরিবেশগত দিক থেকে উফসি ব্রি ধান -১০৩ জাতের আমন ধান চাষের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে জৈন্তাপুর উপজেলায়। তিনি জানান,রবি মৌসুমের সবজী একই জমিতে চাষের চিন্তা করলে ব্রি ধান -১০৩ আগাম জাতের আমন ধান সবচেয়ে উপযোগী। কারণ এটি দ্রুত সময়ে কর্তন করা হয়। তাছাড়া চলতি ২০২৪-২৫ মৌসুমে ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিসটেন্স প্রজেক্টে (ফ্রিপ) জৈন্তাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে কৃষক পর্যায়ে আমন ধান প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী আমন মৌসুমে উফসী ব্রি ধান -১০৩ চাষের মাত্রা বৃদ্ধি করতে ও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




