ছবি : সংগৃহীত
বিপিএল ২০২৬ ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ যেন কাটছেই না। সূচি আর ভেন্যু নিয়ে একের পর এক নাটকীয় মোড় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সবশেষ বড় ধাক্কাটি এলো বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দর্শকদের জন্য। অনেকটা বিনামেঘে বজ্রপাতের মতোই বিসিবি জানিয়ে দিল, এবার সাগরিকার পাড়ে হচ্ছে না বিপিএলের কোনো ম্যাচ।
বন্দরনগরীর সব ম্যাচ হুট করেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে চায়ের দেশ সিলেটে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে হতাশ চট্টগ্রামের অগণিত ক্রিকেট অনুরাগী।
পুরো বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিপিএল গভর্নিং কমিটির সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানিয়েছেন, সময়ের সাথে পাল্লা দিতে গিয়েই মূলত এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বোর্ড। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে টুর্নামেন্ট শেষ করার একটি বাধ্যবাধকতা থাকায় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং যাতায়াতের সময় বাঁচানোই এখন বিসিবির মূল লক্ষ্য।
বিশেষ করে খেলার সরঞ্জাম ও জনবল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং আবার সেখান থেকে ঢাকায় আনা-নেওয়ার পেছনে যে অতিরিক্ত সময় (ট্রাভেলিং ডে) ব্যয় হয়, সেটি কমিয়ে আনতেই সিলেটকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে করে ক্যালেন্ডারের দুটি দিন সাশ্রয় করা সম্ভব হবে, যা সূচি সমন্বয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।
চট্টগ্রামের সমর্থকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে মিঠু বলেন, মাঠের সব প্রস্তুতি এবং ম্যানেজমেন্টের কাজ গুছিয়ে আনার পরও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা দুঃখজনক। পরিস্থিতির চাপে পড়ে এবং টুর্নামেন্ট সময়মতো শেষ করার স্বার্থেই তারা এই ‘শর্টকাট’ পথ বেছে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া ম্যাচগুলো আগামী ৪ জানুয়ারি সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সিলেটে খেলা চলবে টানা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর টুর্নামেন্টের সমাপনী অংশ তথা নকআউট ও ফাইনাল পর্ব ফিরবে ঢাকার মিরপুরে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে বিপিএল আয়োজন নিয়ে যে সংশয় জেগেছিল, তাও উড়িয়ে দিয়েছেন এই বোর্ড পরিচালক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসনের সবুজ সংকেত নিয়েই প্রতিটি কদম ফেলছে বিসিবি।
পরিস্থিতির কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের তারিখ পেছানো হলেও, সবার সহযোগিতায় আগামী ২৩ জানুয়ারি একটি সফল ফাইনালের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের পর্দা নামাতে আশাবাদী ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




