সংগৃহিত
আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের আগে হঠাৎ করেই কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বিসিসিআইয়ের আকস্মিক নির্দেশে বড় ধাক্কা খেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। চেন্নাই সুপার কিংসকে টপকে তীব্র নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। অথচ নতুন মৌসুমে এক বলও করার আগেই সেই তারকা বিদেশি ক্রিকেটারকে হারানোর বাস্তবতায় পড়েছে তারা।
সাধারণত আইপিএল নিলাম শেষে কোনো খেলোয়াড় কেনা হলে ফ্র্যাঞ্চাইজির অর্থ বা ‘পার্স’ লক হয়ে যায়। তবে মোস্তাফিজের বিষয়টি ব্যতিক্রম। এখানে খেলোয়াড়ের চোট, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা অনুপস্থিতির কারণে নয়-বরং কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ‘বহিরাগত পরিস্থিতির’ কারণে বিসিসিআই নিজেই তাকে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আইপিএলের কার্যক্রমসংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, যদি বিসিসিআই অক্রিকেটীয় কারণে কোনো খেলোয়াড়কে স্কোয়াড থেকে প্রত্যাহার করে নেয়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি সাধারণত সেই খেলোয়াড়ের পুরো নিলামমূল্য ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই হিসাবে কেকেআরের পার্সে আবার ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি যুক্ত হওয়ার কথা।
ফোর্স মাজর বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি
মোস্তাফিজ ইস্যুটিকে মূলত ‘ফোর্স মাজর’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি একটি চুক্তিগত ধারা, যেখানে কোনো অপ্রত্যাশিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ঘটনার কারণে চুক্তির শর্ত পূরণ করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ দায়মুক্তি পায়।
এই ক্ষেত্রে কেকেআরের ওপর মোস্তাফিজের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা নেই, কারণ আইপিএল থেকে তার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে।তবে ভবিষ্যতে যদি মোস্তাফিজ কেকেআর বা বিসিসিআইয়ের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, সে বিষয়টি জটিল আইনি ও প্রশাসনিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
পার্স ফেরত পাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ‘রিফান্ড’ বা অর্থ ফেরত পাওয়া কেকেআরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে তারা রেজিস্টার্ড অ্যাভেইলেবল প্লেয়ার পুল কিংবা দ্রুতগতির রিপ্লেসমেন্ট ড্রাফটে নিজেদের পূর্ণ আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে নামতে পারবে।এই অর্থ ফেরত না পেলে, নিজেদের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও কেকেআর কার্যত শাস্তির মুখে পড়ত এবং মোস্তাফিজের সমমানের কোনো বিকল্প বিদেশি বোলার দলে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত।
বিসিসিআইয়ের ইঙ্গিত ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বিসিসিআই ইতোমধ্যে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে। বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া নিশ্চিত করেছেন, কেকেআরকে বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে ঠিক কবে এবং কীভাবে ৯.২০ কোটি রুপি পার্সে ফেরত আসবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।সবকিছু ঠিকঠাক চললে, নতুন একজন বিদেশি পেসার খোঁজার সময় কেকেআরের হাতে পুরো ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ডেথ ওভারে মোস্তাফিজের মতো কার্যকর বিশেষজ্ঞ খুঁজে পাওয়া যে সহজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




