ছবি:সংগৃহীত
একপেশে ম্যাচে নাসুম আহমেদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ভর করে বড় জয় পেয়েছে সিলেট টাইটান্স। মাত্র ৬১ রানে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে গুটিয়ে দিয়ে ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। বিপিএল ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টানা তিন ম্যাচ হারার পর জয়ের আশায় মাঠে নেমেছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। সৌম্য সরকার, মুনিম শাহরিয়ার ও মোহাম্মদ নবীর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে বড় কিছুর প্রত্যাশাও ছিল সমর্থকদের। তবে সব আশায় জল ঢেলে দেন সিলেট টাইটান্সের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ।
মাত্র ৪ ওভারে ৭ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করে নোয়াখালীর ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন নাসুম। একপর্যায়ে ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারানো নোয়াখালী ১৫ রানের ব্যবধানে হারায় বাকি পাঁচ উইকেটও। শেষ পর্যন্ত ১৪.২ ওভারে ৬১ রানে অলআউট হয় দলটি।
নোয়াখালীর পক্ষে মাত্র দুই ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। উইকেটকিপার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান আসে হাবিবুর রহমান সোহানের ব্যাট থেকে। সৌম্য সরকার ৬, হায়দার আলী ৫, মুনিম শাহরিয়ার ৪ রান করে ফেরেন। আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী ১০ বল খেলে করেন মাত্র ১ রান। হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান রানা, জহির খান ও বিলাল সামি-এই চার ব্যাটার আউট হন রানের খাতা না খুলেই। নাসুম ছাড়াও একটি করে উইকেট নেন আমির ও খালেদ।
মাত্র ৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। দলের বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই পারভেজ হোসেন ইমন বিলাল সামির বলে বোল্ড হন। তবে অন্য প্রান্তে দৃঢ় ছিলেন তৌফিক খান। ৭টি চারে সাজানো ১৮ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সহজ করে দেন তিনি। জয় থেকে ৮ রান দূরে থাকতে জহির খানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তৌফিক।
এরপর কিছুটা নাটকীয়ভাবে আরও দুই উইকেট হারায় সিলেট। আফিফ হোসেন ও জাকির হাসান পরপর জহিরের শিকার হন। আফিফ ৫ বলে ২ রান করে স্লগ সুইপে স্লিপে ক্যাচ দেন। ২৪ রান করা জাকির লং অফে হাসান মাহমুদের হাতে ধরা পড়েন।
তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের পথে কোনো বাধা হয়নি। বিদেশি দুই অলরাউন্ডার মঈন আলী ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষ দিকে জহির খানের একটি ওয়াইডেই নিশ্চিত হয় সিলেটের জয়।
উল্লেখ্য, বিপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ৪৪ রান-২০১৬ সালে মিরপুরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে খুলনা টাইটান্স এই রান করেছিল। ২০১৫ সালে বরিশাল বুলস ৫৮ এবং একই বছর সিলেট সুপারস্টার্স ৫৯ রানে অলআউট হয়েছিল। এবারের আসরে নোয়াখালীর ৬১ রান এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




