শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে উত্তাল শাবি , উপাচার্য-উপউপাচার্য অবরুদ্ধ প্রশাসনিক ভবনে তালা
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১০:৫১ AM

নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপিপন্থী ৮ শিক্ষকের পদত্যাগ, স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আবেদন

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে উত্তাল শাবি , উপাচার্য-উপউপাচার্য অবরুদ্ধ প্রশাসনিক ভবনে তালা

প্রকাশিত: ১৯/০১/২০২৬ ১১:২০:৫৪ PM

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে উত্তাল শাবি , উপাচার্য-উপউপাচার্য অবরুদ্ধ প্রশাসনিক ভবনে তালা

ছবি:সংগৃহীত


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) এর ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আগামী চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। রাত পৌণে আটটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা অবরুদ্ধ ছিলেন। 

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রশাসনিক ভবন-১-এ তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর দুপুর সোয়া ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ঘন্টাখানেক সড়কে অবস্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর সড়ক থেকে সরে এসে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। 

শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেল’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আজ মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা ছিল। তবে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভর দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। 

এদিকে, বিকেল সোয়া চারটার দিকে বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা রিটকারী ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুমিনুর রশীদকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফয়সাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’

অপরদিকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই’ উল্লেখ করে বিএনপিপন্থী আটজন শিক্ষক শাকসুর নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। বেলা সাড়ে ১২টায় ক্যাম্পাসে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন জানান, আটজন কমিশনারের পদত্যাগের পাশপাশি বিএনপিপন্থী ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষকও নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। এরপর দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউটিএল। এ সময় সংগঠনের সদস্যসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। রিটের রায় যদি শাকসু নির্বাচনের বিরুদ্ধে আসে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দ্রুতই যাতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, এটা বলেছি। একই সঙ্গে আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনো বিষয় নেই। নির্বাচন যথাসময়ে হতে হবে।’

এর আগে সোমবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১৫ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের সব ধরনের কার্যক্রম চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন। নির্বাচনের অনুমতি দিয়ে ১৫ জানুয়ারি ইসির জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশীদসহ দুজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থী রবিবার রিটটি করেন। 

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস, মনিরুজ্জামান আসাদ ও রাশনা ইমাম শুনানিতে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ। 

রিট আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়ে ইসির ১৫ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের সব কার্যক্রম চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। অনুমতিসংক্রান্ত ইসির ১৫ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। 

এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদনটি শুনানির জন্য সম্পূরক তালিকা করার প্রার্থনা জানানো হয়েছিল। আদালত বলেছেন, নিয়মিত কার্যতালিকায় দিয়ে শুনানি করতে। 


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ