ছবি:সংগৃহীত
প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার সিলেটের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তার আগমন ঘিরে আবেগ-উচ্ছ্বাসে ভাসে সিলেট নগরী ও আশপাশের জনপদ। রাজনৈতিক অনুসারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তাকে এক নজর দেখার আশায় রাস্তায় নেমে আসে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী দক্ষিণ সুরমার কন্যা ডা. জুবাইদা রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে বহনকারী বিমান ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত বুলেটপ্রুফ লাল বাসে করে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। পুরো পথজুড়ে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ হাত নেড়ে, স্লোগান দিয়ে ও ব্যানার-প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। তিনিও গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে ও সালাম জানিয়ে জনতার ভালোবাসার জবাব দেন।
এয়ারপোর্ট সড়কের চৌকিদেখী এলাকায় জনতার ভিড় হঠাৎ বেড়ে গেলে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বহর আবার এগিয়ে যায়।
রাত সাড়ে ৮টার কিছু পর তারেক রহমান শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর দরগাহ মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন।
রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি হযরত শাহপরান (র.) মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। স্বল্প দূরত্ব হলেও জনসমাগম ও নিরাপত্তাজনিত কারণে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। রাত ১১টার দিকে তিনি শাহপরান (র.) মাজারে পৌঁছে সেখানে জিয়ারত সম্পন্ন করেন।
এই পুরো যাত্রাপথে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু-সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। কেউ রাজনৈতিক সমর্থন জানাতে, কেউ আবার কৌতূহলবশত রাস্তায় ভিড় করেন।
মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমান এরপর দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে অবস্থিত শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে সিলেট আগমনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি আগ্রহ ও আবেগঘন পরিবেশ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




