ছবি:সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবেলায় মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
শনিবার (দুপুরে) সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় অসম্পাদিত ও ভিত্তিহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যের কোনো জবাবদিহিতা থাকে না। তাই সাধারণ মানুষকে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য পৌঁছে দিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যেন ব্রেকিং নিউজ দেখেই বিশ্বাসযোগ্য মূলধারার পোর্টালে গিয়ে সত্যতা যাচাই করে-সে আস্থা তৈরি করতে হবে।’
সিলেটের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ
সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের স্মৃতিচারণ করে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নামকরণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সিলেট প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল। তৎকালীন প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নূরের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কালেক্টরেটেই শান্তিপূর্ণভাবে সেই জটিলতার সমাধান সম্ভব হয়েছিল।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে অন্তর্মুখী মানুষ হওয়া সত্ত্বেও সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। অতীতে সিলেট প্রেসক্লাব যেভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে, ভবিষ্যতেও সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।
সাংবাদিকতার নৈতিকতা রক্ষার আহ্বান
সাংবাদিকতার মান ও নৈতিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, অন্যান্য খাতের মতো সাংবাদিকতাতেও কিছু ক্ষেত্রে অবক্ষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থেকে দেশ ও জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম অপরিহার্য। ভুয়া ও অপতথ্য মোকাবেলায় সিলেট প্রেসক্লাবের মতো সংগঠনগুলোর অগ্রণী ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে। ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। তিনি নৈতিকতাবিহীন সাংবাদিকদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এনআরবিদের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রবাসী প্রজন্মকে দেশমুখী করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিলেট প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর বলেন, সাংবাদিকতায় পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে। পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিও না।’ তিনি জানান, সিলেট প্রেসক্লাব দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবে।
সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অভিষেক কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মুন্সী ইকবাল এবং গীতা পাঠ করেন সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে সিলেট প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে তিনি প্রেসক্লাবের মকবুল হোসেন চৌধুরী পাঠাগার পরিদর্শন করেন।
এ সময় সিলেট প্রেসক্লাব, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসএমইউজে), বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির কর্মকর্তাবৃন্দ, সদস্য ও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




