বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আধুনিক ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে: খন্দকার মুক্তাদির
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ AM

গণসংযোগ ৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের উদ্যোগে উঠান বৈঠক

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আধুনিক ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে: খন্দকার মুক্তাদির

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪/০১/২০২৬ ০৯:৫৯:১০ PM

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আধুনিক ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে:  খন্দকার মুক্তাদির

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিগত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকার সিলেটের স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। জনসংখ্যা বাড়লেও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন হাসপাতালে আসা রোগীরা প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে হাসপাতালগুলো আধুনিকায়ন করে জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-১ আসনে দিনভিত্তিক নির্বাচনী প্রচারণাকালে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেন খন্দকার মুক্তাদির।

সকালে নগরীর জিতু মিয়ার পয়েন্ট থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। এরপর শেখঘাট, নবাব রোড, এবি পয়েন্ট, কলাপাড়া, লামাপাড়া, ঘাসিটুলা, মজুমদারপাড়া, শামীমাবাদ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এলাকা, নরসিংটিলা ও বর্ণমালা পয়েন্টসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেন।

গণসংযোগকালে তিনি পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই আগামী নির্বাচনে তাকে সমর্থনের আশ্বাস দেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।

উঠান বৈঠকে সামাজিক কর্মসূচির ঘোষণা

এদিকে বিকেলে নগরীর মজুমদারীতে মজুমদার বাড়িতে ৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের উদ্যোগে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এই কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার সমপরিমাণ খাদ্য সহায়তা পাবে, যা কেবল নারীদের নামে ইস্যু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিএনপি নেবে। অতীতে বিএনপি বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিল এবং বেগম খালেদা জিয়া নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। ভবিষ্যতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মধ্যাহ্নভোজ চালু করা এবং কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সময়ে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে তা স্থবির হয়ে পড়ে। বিএনপি সরকার গঠন করলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান এবং নারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের ঘরে বসে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট থেকে ‘তীর জুয়া’ চিরতরে বন্ধ করা হবে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কোনো ধরনের অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দলের লোকজন জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, সহ-সভাপতি সুদিপ রঞ্জন সেন বাপ্পু ও জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর যুবদলের সভাপতি নেওয়াজ বক্ত চৌধুরী তারেক, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাকিল মুর্শেদ, মহানগর বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসর খান, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনারসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি হাফসা বেগমের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদারের সঞ্চালনায় উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ফরহাদ চৌধুরী শামীম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুবের আহমদ।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ