ছবি:সংগৃহীত
র্যাব-৯ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে সিলেটের বিয়ানীবাজারে ইমন আহমদ হত্যা মামলার এক পলাতক আসামিকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম সাজিদুল ইসলাম মুন্না (২৩)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার দেলুটিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মো. ইব্রাহিমের ছেলে।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে র্যাব-৯ (সিলেট সদর কোম্পানি) ও র্যাব-১৪ (সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল) এর একটি যৌথ দল টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানাধীন কদমতলী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিয়ানীবাজার থানার হত্যা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইমন আহমদ সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানাধীন খশির নামনগর এলাকার বাসিন্দা। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তিনি বাড়ি থেকে বৈরাগীবাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তিনি ও সাজিদুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইমন আহমদকে বিয়ানীবাজার থানাধীন শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে শেওলা ইউনিয়নের শালেশ্বর এলাকার একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ইমন আহমদের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ঘটনার পরদিন ১০ ডিসেম্বর একই ইউনিয়নের আব্দুল করিম মনাইরের ছেলে আশরাফুল (২৩) কে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, নিহত ইমনের ব্যবহৃত আইফোনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
বিয়ানীবাজার থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, আশরাফুল ও ইমন একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। কয়েকজনের যোগসাজশে ইমনের মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিয়ানীবাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




