রিকশা মার্কায় ভোটে জয় মানেই স্বাধীনতাকামী জনতার বিজয়: বালাগঞ্জে মামুনুল হক
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৩:২৬ AM

রিকশা মার্কায় ভোটে জয় মানেই স্বাধীনতাকামী জনতার বিজয়: বালাগঞ্জে মামুনুল হক

আতাউর রহমান কাওছার, ওসমানীনগর

প্রকাশিত: ২৮/০১/২০২৬ ১২:১০:৫৪ AM

রিকশা মার্কায় ভোটে জয় মানেই স্বাধীনতাকামী জনতার বিজয়: বালাগঞ্জে  মামুনুল হক

ছবি:সংগৃহীত


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, রিকশা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করা হলে সেটি শুধু একজন প্রার্থীর বিজয় নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী ও পরিবর্তন প্রত্যাশী জনতার বিজয় হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সিলেট-৩ আসনে ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুর পক্ষে রিকশা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে এবং বালাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রহমত আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জুল হুসাইন মিরাজী, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহাজাহান আলী এবং খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আলী আসগর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ১১ দলীয় জোট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়নি। এই ঐক্য দেশের মানুষকে তার অধিকার ও ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন। আমাদের লক্ষ্য একটাই—শোষণমুক্ত, লুটপাটমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, বিগত ৫৪ বছরে দেশের মানুষ শাসনের নামে শোষণের শিকার হয়েছে। মানুষের অধিকারের কথা বলে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। গরিব মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই অন্যায় ব্যবস্থার অবসান ঘটাতেই দেশপ্রেমিক সকল শক্তি আজ ১১ দলীয় ঐক্যে একত্রিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে দেশের তরুণরা বুক পেতে দিয়ে গুলি মোকাবিলা করেছে। আবু সাঈদের মতো শহীদরা জীবন দিয়েছেন। দেড় হাজারের বেশি তরুণ প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার জুলাই যোদ্ধা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের জন্যই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ১১ দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, যদি নির্বাচনে জনগণের রায় ছিনতাই না করা হয় এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনতার বিজয় বাধাগ্রস্ত না করা হয়, তাহলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতন ঘটেছে। আগামী দিনে ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতেই ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বালাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা. মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, খেলাফত মজলিস বালাগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মিসবাহ উদ্দিন মিসলু, মাওলানা আসাদুজ্জামান আসাদ, সেক্রেটারি মিম হোসাইন, মাওলানা আতিকুল ইসলাম, ছাত্র মজলিস সিলেট জেলা পশ্চিম সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া, ছাত্রশিবির বালাগঞ্জ দক্ষিণ সভাপতি আবেদ আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ