সিলেটকে কৃষিপণ্য রফতানির হাব বানাতে চান খন্দকার মুক্তাদির
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০২:১৯ AM

কমিউনিটি ক্লিনিক শক্তিশালী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি

সিলেটকে কৃষিপণ্য রফতানির হাব বানাতে চান খন্দকার মুক্তাদির

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০১/২০২৬ ০৯:১৭:৩৫ PM

সিলেটকে কৃষিপণ্য রফতানির হাব বানাতে চান খন্দকার মুক্তাদির

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিলেটকে দেশের কৃষিপণ্য রফতানির অন্যতম হাব (কেন্দ্র) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আধুনিক অবকাঠামো, প্যাকিং হাউস ও কুলিং সিস্টেম স্থাপন করে রফতানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে শত শত টন কৃষিপণ্য বিদেশে রফতানি হয়, যার বড় অংশ সিলেটের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে হয়। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী ও মঙ্গলবার রাতে সিলেট-১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী সভা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, আধুনিক কৃষিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে। কৃষিতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাতকে আধুনিকায়ন করলে সিলেটের অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

দক্ষিণ সুরমায় গণসংযোগে জনস্রোত

বুধবার সকালে খন্দকার মুক্তাদিরের নেতৃত্বে দক্ষিণ সুরমা এলাকায় গণসংযোগ শুরু হয়। কদমতলি জামে মসজিদের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি আলমপুর, গোটাটিকর, কদমতলি পয়েন্ট, ঝালোপাড়া, ভার্থখলা, মমিনখলা এবং ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে এ প্রচার মিছিল উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খন্দকার মুক্তাদিরকে শুভেচ্ছা জানান এবং নিজেদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে সেসব কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হলে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর রোকসানা বেগম শাহনাজ, সেলিম আহমদ রনি, সহ-সভাপতি আফজাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল মুর্শেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আখতার রশিদ চৌধুরী, ডা. এম এ হক বাবুল, নাজিম উদ্দিন, বাবলু হোসেন হৃদয়, সাবেক ছাত্রনেতা মওদুদল হক মওদুদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কমিউনিটি ক্লিনিক শক্তিশালী করার ঘোষণা

বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর ছড়ারপারে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দল ও নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সিলেটে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে শক্তিশালী করা হবে। সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিতি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পান।

তিনি বলেন, গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেওয়া হবে, যা নারীদের নিজ নামে হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সিলেটে পর্যাপ্ত শিল্প-কারখানা না থাকায় শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা ও বিদেশমুখী হচ্ছেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে শিল্প-কারখানা স্থাপন করে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভোট ছাড়াই অনেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে, ফলে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

১৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি রাজিয়া সুলতানা সাবানরের সভাপতিত্বে ও যুবদল নেতা ইকবাল আহমদ মাসুমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর খান, সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ, আলেয়া ফেরদৌসী তুলি, জিয়াউর রহমান দিপন, নিহির মিয়া, আলী আশরাফ চৌধুরী, যুবদল নেতা মুনিমুর রহমান তানিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এদিকে মঙ্গলবার রাত ১০টায় নগরীর চৌহাট্টায় সিলেটস্থ দিরাই-শাল্লাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। জগদল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সমুজ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ব্যবসায়ী শেখ আব্দুল লতিফের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দিরাই ও শাল্লা উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ