বিয়ানীবাজারে মা ও শিশু হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, ইটপাটকেল নিক্ষেপ
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০২:১৮ AM

বিয়ানীবাজারে মা ও শিশু হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, ইটপাটকেল নিক্ষেপ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০১/২০২৬ ১০:২৫:৫৫ PM

বিয়ানীবাজারে মা ও শিশু হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু, ইটপাটকেল নিক্ষেপ

ছবি:সংগৃহীত


সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুটির স্বজনরা হাসপাতাল লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর শিশুটির স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের সামনে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে হাসপাতাল ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও মৃত নবজাতকের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভর্তির আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মা ও শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক বলে জানিয়েছিল। তবে প্রসবের সময় সেখানে কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। তারা দাবি করেন, অদক্ষ নার্সের মাধ্যমে প্রসব কার্যক্রম পরিচালনার কারণেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতালে আরেক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটি গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমকোনা এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল হামিদের সন্তান বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ওই হাসপাতালে একাধিকবার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত কিংবা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে বিয়ানীবাজার মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের  কর্তৃপক্ষের  বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পৌর এলাকার একাধিক সচেতন নাগরিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দক্ষ চিকিৎসক, সার্জন ও প্রশিক্ষিত নার্স থাকার কথা বলে রোগীর স্বজনদের ভর্তি হতে উৎসাহিত করে। তবে বাস্তবে প্রসবের সময় অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত জনবল পাওয়া যায় না। তাদের মতে, অদক্ষ জনবল দিয়ে প্রসব কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ঝুঁকি বাড়ছে।

তারা আরও জানান, কখনো কখনো নবজাতকের মৃত্যু না হলেও মা ও শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে- এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়।


এ ঘটনায় সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ