ছবি: জৈন্তা বার্তা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গ্রুপ স্টাডি করার মতো পর্যাপ্ত জায়গার অভাব এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লাইব্রেরি বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, এতে দলীয় অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কাজগুলো ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন, শুক্র ও শনিবার লাইব্রেরি খোলা রাখা হোক, যাতে তারা নিজেদের পড়াশোনা গুছিয়ে নিতে পারেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, সপ্তাহের অন্যান্য দিন ক্লাস, ল্যাব এবং টিউশনির চাপের কারণে তাদের পক্ষে লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়াশোনা করা বা গ্রুপ স্টাডি করা সম্ভব হয় না। তারা মনে করেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো এই ঘাটতি পূরণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ ছাড়াও বাইরে থেকে ব্যক্তিগত বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে না পারাও তাদের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহীম খলিল নিয়ন বলেন, আমাদের বেশিরভাগ একাডেমিক কাজই এখন গ্রুপভিত্তিক। কিন্তু জায়গার অভাবে আমরা গ্রুপ স্টাডি করতে পারি না। পুরো সপ্তাহ একাডেমিক পড়াশোনাতেই কেটে যায়, যার ফলে নিজস্ব পড়া গোছানোর সুযোগ থাকে না। যদি শুক্র-শনিবার লাইব্রেরি খোলা থাকে, তবে আমরা এই দিনগুলোতে নিজেদের পড়া গুছিয়ে এবং গ্রুপভিত্তিক কাজগুলোও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারব।
এ বিষয়ে লাইব্রেরির প্রশাসক প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক এবং বন্ধুসুলভ পরিবেশ তৈরি করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে বর্তমানে জনবল কম থাকার কারণে বন্ধের দিন লাইব্রেরি খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই সমস্যার ব্যাপারে অবগত এবং এর সমাধানে কাজ করছি। আমি আশ্বাস দিচ্ছি যে শীঘ্রই শনিবার লাইব্রেরি খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুবিধা হবে।
গ্রুপ স্টাডির জায়গার সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবনটি মূলত লাইব্রেরি হলেও এর নিচতলায় বিভিন্ন ইনস্টিটিউট এবং দাপ্তরিক কার্যালয় রয়েছে, যা জায়গার সংকট তৈরি করেছে। এ কারণে গ্রুপ স্টাডির জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আপাতত করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, আমরা এই সমস্যার একটি বিকল্প সমাধান বের করার চেষ্টা করছি, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনা করতে পারে।
শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এই সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেবে, যেন পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত হয় এবং একাডেমিক কার্যক্রমে কোনো বাধা না আসে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




