ছবি:সংগৃহীত
আগামী শনিবার সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন জামায়াতে ইসলামীর আমি ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃৃবৃন্দ ব্ক্তব্য রাখবেন।
শনিবার দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এ জনসভা শেষ হবে বিকাল সাড়ে ৪টায়। এতে লক্ষাধিক জনসমাগমের আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে প্রেস ব্রিফিং করে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হয়।
মহানগরের ধোপাদিঘিরপাড়স্থ সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. নূরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে মূল বক্তব্য রাখেন মহানগরের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
পরে বক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। এছাড়া প্রেস ব্রিফিংয়ে ১০ দলীয় জোটের সিলেট জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়- শনিবার হেলিকপ্টারযোগে জামায়াত আমির সকাল ১০টায় হবিগঞ্জে পৌঁছাবেন। সেখানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিবেন। পরে দুপুর ২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে সিলেট এসে পৌঁছাবেন তিনি।
সিলেটের নির্বাচনী জনসভা সফলে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি জানান- জনসভার নিরাপত্তা চেয়ে সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা (জেলা প্রশাসক) ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের সঙ্গে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। - সুনামগঞ্জ-৫ আসন
সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি
চমক দেখাতে চায় জামায়াত
মো. মোশাররফ হোসেন, ছাতক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে ভোটের মাঠ দিন দিন জমে উঠছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীত নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ ও সাম্প্রতিক সমীকরণে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও শেষ মুহূর্তে চমক দেখাতে পারে জামায়াতে ইসলামী।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৬২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৭০টি, ইউনিয়নের সংখ্যা ২২টি।
ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় প্রচারণায় নারী ভোটারদের আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ ও প্রথমবারের ভোটার এই আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাখাতে উন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। এসব ইস্যুকে সামনে রেখে বিএনপি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আর জামায়াত প্রচারণা চালাচ্ছে ‘ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ’ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের স্বার্থে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণা দেন।
মিজান চৌধুরী বলেন, আমি বিএনপির একজন কর্মী। ধানের শীষ ছাড়া আমাদের কোনো অবস্থান নেই। এই আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতেই আমরা কাজ করব।
বিদ্রোহী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ফলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ভোট বিভক্তির আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামছুর রহমান শামছু দাবি করেন, ছাতক ও দোয়ারাবাজারে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, সুনামগঞ্জ-৫ বিএনপির ঘাঁটি, এখানে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। এই আসনে বেশি সংখ্যক ভোট পেয়ে সকল ক্ষেত্রে আমরা বিজয় অর্জন করব।
অন্যদিকে জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, নারী ও তরুণ ভোটারদের বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে এবং ইনসাফের রাজনীতিতে আগ্রহী।
ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল বলেন, নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে, দাঁড়িপাল্লাই বিজয়ী হবে।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে দিনরাত প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে-গঞ্জে মানুষের পাশে আছি। নির্বাচিত হলে নেতা নয়, সেবক হিসেবে কাজ করব।
রাজনৈতিক মহলের মতে, জামায়াতের সংগঠিত কাঠামো, নীরব ভোটার এবং অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত প্রচারণা শেষ মুহূর্তে ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল) এবং এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ভোটের লড়াই এখন দ্বিমুখী। ঐক্যবদ্ধ বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের নীরব কৌশল ও সংগঠিত ভোট ব্যাংক শেষ পর্যন্ত ফলাফলে চমক আনতে পারেÑ এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকবে নারী ও তরুণ ভোটারদের ভোটÑ সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




