নলজুরের বুকে উদ্বোধনের অপেক্ষায় 'আর্চ সেতু'
রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১০ AM

নলজুরের বুকে উদ্বোধনের অপেক্ষায় 'আর্চ সেতু'

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/০৪/২০২৬ ০১:১৪:২২ PM

নলজুরের বুকে উদ্বোধনের অপেক্ষায় 'আর্চ সেতু'

ছবি নিজস্ব


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে নলজুর নদের ওপর নির্মিত দেশের অন্যতম আধুনিক ও সৃষ্টিনন্দন 'আর্চ সেতু' দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। রাজধানীর হাতিরঝিলের আর্চ সেতুর আদলে নির্মিত এই বিশেষ অবকাঠামোটি এখন পূর্ণাঙ্গ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধন, রঙ এবং আলোকসজ্জার কাজ পুরোপুরি শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সুনামগঞ্জে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের এ যাবৎ সবচেয়ে বড় স্থাপনা জগন্নাথপুরে নির্মিত আর্চ সেতু। সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের বিশেষ উদ্যোগে এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এটি অনুমোদন পায়।

২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি ১৩ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে নলজুর নদীর ওপর মধ্যভাগে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১১.২৫ মিটার প্রস্থের এই আর্চ সেতুর অনুমোদন হয়। এই সেতুর প্রধান বিশেষত্ব হলো এর আধুনিক বো-স্ট্রিং আর্চ নকশা, যার ফলে নদীর মাঝখানে কোনো পিলারের প্রয়োজন পড়েনি। এতে নদীর স্বাভাবিক পানির প্রবাহ যেমন বাধাগ্রস্ত হবে না, তেমনি স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এটি এই অঞ্চলে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। সেতুর দুই পাশে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রশন্ত ফুটপাত রাখা হয়েছে এবং রাতের বেলা সেতুটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে বিশেষ আর্কিটেকচারাল লাইটিং বা আধুনিক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সেতুটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের বাসিন্দা কালা মিয়া বলেন, দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে খাদ্য গুদামের সেতু ভাঙার পর আমরা চরম দুর্ভোগে পড়ি। ডাইভারশন সেতু, বাঁশের সেতু ও ডাকবাংলো সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে আমাদের হিমশিম খেতে হতো। অবশেষে দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতুটির কাজ সমাপ্ত হওয়ার ফলে আমাদের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে। এখন বড় বড় গাড়ি সহজেই শহরে ঢুকতে পারে।

জগন্নাথপুর সৈয়দপুর এলাকায় বাসিন্দা সৈয়দা গুলশানা বেগম (সুমা) বলেন, আমরা টিভিতে বা ইন্টারনেটে হাতিরঝিলের সেতুর ছবি দেখতাম। এখন আমাদের নিজের শহরেই এমন সুন্দর একটি সেতু হয়েছে দেখে খুব গর্ববোধ করছি। সেতুর আলোকসজ্জার কাজ শেষ হলে এটি জগন্নাথপুরসহ এই অঞ্চলের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবে।

এই প্রকল্প প্রসঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, বর্তমানে লাইটিংয়ের মতো সৌন্দর্যবর্ধনের কাজগুলো চলমান রয়েছে। হাতিরঝিলের আর্চ সেতুর আদলে নির্মিত এই সেতুটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে না, বরং এটি জগন্নাথপুর শহরের চেহারা বদলে দেবে। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করতে পারব।

জৈন্তা বার্তা/আরআর