ছবি:সংগৃহীত
এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সম্প্রতি ঘোষিত সীমাবদ্ধতামূলক নীতিমালার প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিতসহ একাধিক দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরামের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে হাসপাতালের পরিচালকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম চালিকাশক্তি চিকিৎসক সমাজ বর্তমানে বৈষম্য, অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের মেধা, শ্রম ও আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না করে ধারাবাহিকভাবে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১৯ মে ২০২৬ তারিখের সিদ্ধান্ত বাতিল, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের জন্য নবম গ্রেডসমমান বেতন কাঠামো চালু, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা, বিএমডিসি আইন অনুযায়ী ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ।
অন্যদিকে, ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরামের নেতারা এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালাকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তারা বলেন, একজন চিকিৎসক এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান। এ সময়ে অধিকাংশ চিকিৎসক আর্থিক সংকট, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও পেশাগত অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। এমন বাস্তবতায় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট র্যাংকের মধ্যে ভাতা সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরামের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বিসিপিএসের নতুন প্রস্তাবনা বাতিল, এফসিপিএস ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ, বিসিএস পরীক্ষার বয়সসীমা বৃদ্ধি, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ আইন প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ, পাশাপাশি নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমোদন বন্ধ রেখে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন।
চিকিৎসক নেতারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির স্বার্থে চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




