সংগৃহিত
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
নিহত গৃহবধূ হলেন উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার মোহাম্মদ মারুফের স্ত্রী খাদিজা আক্তার (১৯)। তিনি একই এলাকার আবদুল জলিলের মেয়ে। সাত মাস আগে পরিবারের অমতে মারুফকে বিয়ে করেছিলেন খাদিজা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, খাদিজাকে হত্যা করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খাদিজাকে তাঁর স্বামী আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই খাদিজার স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন হাসপাতাল থেকে চলে যান। পরে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, খাদিজার গলায় একটি দাগ রয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উপমা চৌধুরী বলেন, 'হাসপাতালে আনার আগেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আমরা তাঁর স্বজনদের খুঁজেছি, কিন্তু কাউকে পাইনি।'
খাদিজার ভাই মো. ফরহাদ বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসেছি। আমাদের ধারণা, খাদিজাকে হত্যার পর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।'
খাদিজার বাবা আবদুল জলিল বলেন, 'সাত মাস আগে আমাদের অমতে মেয়েটি বিয়ে করেছিল। এরপর থেকে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিল। আমার মেয়ে আর নেই-এমন ঘটনার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।'
এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে খাদিজার স্বামী মোহাম্মদ মারুফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, 'গৃহবধূর গলায় দাগ রয়েছে। এটি আঘাতের চিহ্ন হতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।'
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




