বড়লেখায় চা-বাগানে অ*বৈধ গাছ কা*টার সত্যতা মিলল প্রাথমিক তদন্তে
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ PM

শাহবাজপুর চা-বাগানে ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জ*ব্দ

বড়লেখায় চা-বাগানে অ*বৈধ গাছ কা*টার সত্যতা মিলল প্রাথমিক তদন্তে

মোহাম্মদ মোস্তফা উদ্দিন, বড়লেখা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/০৭/২০২৬ ০৮:৩২:০২ PM

বড়লেখায় চা-বাগানে অ*বৈধ গাছ কা*টার সত্যতা মিলল প্রাথমিক তদন্তে

ছবি:সংগৃহীত


মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর চা-বাগানে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ যেন থামছেই না। সরকারি টিলা ভূমির শত শত গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের টানা অভিযানে এ পর্যন্ত ৭ শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। এতে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে বড়লেখা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়ার নেতৃত্বে এবং বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) রেজাউল মৃধা ও ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকারের উপস্থিতিতে শাহবাজপুর চা-বাগানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে বাগানের বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা বিপুল পরিমাণ গাছ পাওয়া যায়। এ সময় চা-বাগান কর্তৃপক্ষ বন বিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে ঘটনাস্থলে পাওয়া প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করে সেগুলো সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরদিন রোববার (৫ জুলাই) পুনরায় অভিযান চালিয়ে বাগানের ভেতর বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা আরও ১৩০টি কাটা গাছের গুঁড়ি এবং প্রায় ২০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে জব্দকৃত কাঠের পরিমাণ ৭ শতাধিক ঘনফুটে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকুণ্ঠনগর, বিপিন টিলা, আনডরসহ আশপাশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় কয়েকশ গাছ কাটা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পাহাড়ি ঢালের বড় বড় গাছ হাতির সাহায্যে নিচে নামিয়ে ট্রাকে করে বিয়ানীবাজারের এক কাঠ ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় কয়েকজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। কাঠগুলো প্রথমে বাগানের কার্যালয় ও ফ্যাক্টরির আশপাশে মজুত রেখে পরে ভোরবেলা বিভিন্ন করাতকলে সরিয়ে নেওয়া হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি লিজের জমির গাছ নির্বিচারে কাটার পেছনে একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব গাছ কাটা হয়েছে। জব্দ করা কাঠ যে অবস্থায় রয়েছে, সেভাবেই সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগকে সব কাটা গাছ ও কাঠের পরিমাপ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ৫০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়। পরদিন আরও ১৩০টি গাছের গুঁড়ি এবং প্রায় ২০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়েছে। কাঠের চূড়ান্ত পরিমাপ শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু কাঠ জব্দ করেই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। সরকারি সম্পদ রক্ষায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অবৈধ গাছ কাটা বন্ধ হয়, সে জন্য কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

নথিপত্র ও আইনি দিক পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত: সিসিক প্রশাসক
স্ত্রীকে হ'ত্যা: জিডি করতে গিয়ে ফেঁ'সে গেলেন স্বামী
মাধবপুরে রাস্তার পাশ থেকে নবজাতক উ'দ্ধার
সিলেটে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
শাহজালাল (রহ.) মাজার উন্নয়ন ও ‘প্রবাসী পল্লী’ গড়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন
গোয়াইনঘাটে মোটরসাইকেল দু*র্ঘটনায় সাকিবের পর প্রা*ণ গেল জয় ও রায়হানের
জুনে সিলেটে ২৯ সড়ক দু*র্ঘটনায় প্রা*ণ গেল ২৯ জ*নের, নি*হতদের মধ্যে ১২ জন পথচারী
'প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব'- এমপি এমরান চৌধুরী
সিলেটে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর সম্মানে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’
সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট আবারও চালু