ছবি:সংগৃহীত
পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে গৃহস্থালি পর্যায় থেকেই জৈব ও অজৈব বর্জ্য পৃথকীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সোমবার (৬ জুলাই) নগরীর সোবহানীঘাটস্থ একটি হোটেলের সম্মেলনকক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পানি চক্রের টেকসই রূপান্তর প্রকল্প এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসএনভির যৌথ উদ্যোগে ‘উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ’ বিষয়ক কর্মশালা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। এতে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উৎসে জৈব ও অজৈব বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এসএনভি সিলেট প্রকল্পের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর রাহিমা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন এবং রিডো বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসা থেকেই জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ নিশ্চিত হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্জ্যকে সমস্যা নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সঠিকভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ দূষণ কমবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি।’
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং নিজ নিজ এলাকায় উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




