সংগৃহীত
বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রশাসনও পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জ্বালানি সাশ্রয়ের নামে বাস ট্রিপ কমানোর ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের তুলনায় শিক্ষার্থীদের ওপরই বেশি প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি ঘিরে ক্যাম্পাসে বৈষম্যের অভিযোগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শিডিউল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জ্বালানি সংকট শুরুর আগে (৯ নভেম্বর ২০২৫ অনুযায়ী) শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস থেকে সিলেট নগরের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ৩৯টি বাস ট্রিপ পরিচালিত হতো। একই সময়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য ছিল ২৫টি ট্রিপ।এ ছাড়া পরিবহন শিডিউলের আরও দুটি সময়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, লাইব্রেরি ট্রিপ বাদ দিয়ে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য দৈনিক ৩৬টি বাস ট্রিপ পরিচালিত হলেও ১১ জুন ২০২৬-এ তা কমে দাঁড়ায় ৩৪টিতে। ফলে সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুই পক্ষের ক্ষেত্রে সমান নীতি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।পরবর্তীতে জ্বালানি সংকটের সময় কার্যকর হওয়া নতুন শিডিউল (৮ জুন ২০২৬) অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বাস ট্রিপ কমানো হয় ৯ থেকে ৫টি (ধাপে ধাপে) । বিপরীতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কমানো হয় মাত্র একটি ট্রিপ। ফলে সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুই পক্ষের ক্ষেত্রে সমান নীতি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অনেকের ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস অথবা স্থানীয় গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করেই ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হয়। বাসের ট্রিপ কমে যাওয়ায় তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং স্থানীয় পরিবহনে চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে সিলেট নগরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ছিনতাইয়ের ঘটনাও প্রায়ই ঘটছে বলে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ আরিয়ান শেখ বলেন,
“জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা সবচেয়ে বেশি সংকুচিত করেছে। পূর্বের তুলনায় শিক্ষার্থীদের জন্য বাস কমেছে পাঁচ থেকে নয়টি, অথচ শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কমেছে মাত্র একটি। এটি স্পষ্টতই প্রশাসনের একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় অংশীজন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রতিদিন তারাই বাসের সংকট, অতিরিক্ত ভিড় এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ভোগান্তি পোহাচ্ছে। যদি জ্বালানি সংকটই প্রকৃত কারণ হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাব সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত ছিল।আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে দ্রুত আগের মতো পর্যাপ্ত বাসসেবা চালু করা হোক। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব।”
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের বাসের কিছু ট্রিপ কমানো হয়েছে। বিশেষ করে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের বিভিন্ন রুটের বাসগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এটি কোনো ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত নয়; প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”তিনি বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টার পর থাকে না,এজন্যই এ সিদ্ধান্ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের বাস নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি বলেও জানান তিনি। ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, “যদি শিক্ষার্থীরা লিখিত আবেদন করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সরকারি নির্দেশনার মধ্যে থেকে সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট শাখাকে বাস চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্যই আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী,২০০/১০০ জন শিক্ষার্থী উপকৃত হলেও আমরা তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। তবে সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও শিক্ষার্থীদের বিবেচনায় রাখা উচিত।”উল্লেখ্য যে উপরের বাসের ট্রিপ সংখ্যা শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরী ট্রিপ ও শিক্ষকদের ক্লাব ট্রিপ ব্যতীত এবং যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




