১৮ দিনে ৪৭ লাখ টাকা, তাহলে এত বছরে কত ?
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ PM

শাহজালাল (র.) মাজারের ৮টি দানবাক্স ও ৩টি ডেকছি খুলে টাকা গণনা

১৮ দিনে ৪৭ লাখ টাকা, তাহলে এত বছরে কত ?

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৭/২০২৬ ০৮:৫০:০৪ PM

১৮ দিনে ৪৭ লাখ টাকা, তাহলে এত বছরে কত ?

ছবি:সংগৃহীত


মাত্র ১৮ দিনে ৪৭ লাখ টাকারও বেশি দান। এই অঙ্ক সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারের দানবাক্স। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে-যদি মাত্র ১৮ দিনেই এত অর্থ জমা হয়, তবে বছরের পর বছর ধরে ভক্তদের দেওয়া দানের মোট পরিমাণ কত হতে পারে? যদিও এর কোনো সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হয়নি, তবুও সাম্প্রতিক এই অঙ্ক জনমনে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) মাজার ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির তত্ত্বাবধানে ৮টি দানবাক্স ও ৩টি ডেকছি খুলে টাকা গণনা শেষে জানানো হয়, গত ১৮ দিনে ভক্তদের দেওয়া দানের পরিমাণ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা

নগদ অর্থ ছাড়াও পাওয়া গেছে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম সোনাসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা

এছাড়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ২০ মার্কিন ডলার, ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২ কাতারি রিয়াল, ৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১ দশমিক ৪৫ ওমানি রিয়াল, ৫৪ দশমিক ২০ আমিরাতি দিরহাম, ৪ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ১০ সিঙ্গাপুর ডলার

শুধু অর্থই নয়, গত ১৮ দিনে ভক্তরা মাজারে একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল দান করেছেন।

গণনার সময় আরও পাওয়া যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং হযরত শাহজালাল (র.)-এর উদ্দেশে লেখা একাধিক চিঠি। উদ্ধার করা হয় কয়েকটি তান্ত্রিক কবিরাজের তাবিজও।

টাকা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ জেলা প্রশাসন ও মাজার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের সব দানবাক্স ও ডেকছি সিলগালা করা হয়। এরপর ২২ জুন প্রথমবার প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে মাত্র চার দিনের দান গণনা করে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৭৯ টাকা পাওয়া যায়। এবার ১৮ দিনের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, যা মাজারে ভক্তদের দানের প্রবণতার একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র তুলে ধরেছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ