সংগৃহিত
ফরিদপুরের মধুখালীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় জামাল মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জামাল মোল্লা (৬৫) মধুখালী উপজেলার মাবকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে ভুক্তভোগী শিশুটি রাজবাড়ী সদর থানার বানিয়াবহু হুগলাডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। শিশুর বাবা মো. সৈয়দ মণ্ডল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৩ মে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশে দর্জির বাড়িতে নতুন জামা-কাপড় আনতে যায়। সেখানে দর্জির বাড়িতে না থাকায় শিশুটি আসামির বাড়ির উঠানে তার নাতনিসহ অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় জামাল মোল্লা শিশুটিকে তার বসতঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
একপর্যায়ে শিশুটি আসামির হাত থেকে ছুটে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় আসামির বাড়ির সিঁড়ির ওপর পড়ে গিয়ে শিশুটি চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর আসামি কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন।
মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামি জামাল মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তা ও এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




