ছবি:সংগৃহীত
বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হয়েছে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি), সিলেটের ফিজিওথেরাপি বিভাগের উদ্যোগে র্যালি, বৈজ্ঞানিক সেমিনার, আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় শাহী ঈদগাহস্থ আইএইচটি সিলেট ক্যাম্পাস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শাহী ঈদগাহ এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আইএইচটি ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ফিজিওথেরাপি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে আইএইচটি সিলেট ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও আলোচনা সভা। পরে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
এবারের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘হৃদরোগ ও স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে শারীরিক সক্রিয়তা ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভূমিকা।’
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুহিবুর রহমান ও মিথি ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএইচটি সিলেটের অধ্যক্ষ ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিফ ফিজিওথেরাপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, ফিজিওথেরাপিস্ট মো. আলমগীর হোসেন, আল-হারামাইন হাসপাতালের ফিজিওথেরাপিস্ট সুব্রত কুমার সিনহা, প্রয়াস সিলেট ক্যান্টনমেন্টের ফিজিওথেরাপিস্ট সুমন আহমেদ এবং আইএইচটি সিলেটের লেকচারার (ল্যাব মেডিসিন বিভাগ) মো. আলমগীর আলম।
এছাড়া বক্তব্য দেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুহেল খান ও মেঘলা আক্তার এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাবেয়া, মিনহাজ ও শুভ আহমেদ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। হৃদরোগ ও স্ট্রোক বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
তারা বলেন, হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। ফিজিওথেরাপির ভূমিকা শুধু রোগের পর পুনর্বাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; রোগ প্রতিরোধ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সংরক্ষণ এবং সক্রিয় জীবনযাপন নিশ্চিত করতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বক্তারা জানান, ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও চিকিৎসাগত অবস্থা বিবেচনায় অ্যারোবিক, স্ট্রেংথেনিং ও ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজের পাশাপাশি ফাংশনাল ট্রেনিং পরিকল্পনা করা যায়। হৃদরোগের পর কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন এবং স্ট্রোকের পর ব্যক্তিকেন্দ্রিক রিহ্যাবিলিটেশন কর্মসূচির মাধ্যমে রোগীর কর্মক্ষমতা, স্বাধীনতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, ফিজিওথেরাপিকে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবায় সীমাবদ্ধ না রেখে প্রিভেন্টিভ হেলথকেয়ার, প্রাইমারি হেলথকেয়ার ও কমিউনিটি-বেইজড রিহ্যাবিলিটেশনের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘ফিজিওথেরাপি শুধু মুভমেন্ট ফিরিয়ে দেয় না; এটি মানুষের স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস ও উন্নত জীবনযাপনের সক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়।’
সেমিনারে ফিজিওথেরাপির শিক্ষার্থীদের এভিডেন্স-বেইজড প্র্যাকটিস, গবেষণা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভা থেকে ‘প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি, পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি—উন্নত জীবনের জন্য ফিজিওথেরাপি’—এই বার্তা তুলে ধরা হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




