আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ AM

আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯/০৯/২০২৬ ০৯:৪১:৫০ AM

আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের

সংগৃহীত


দুবাইয়ে কম রানের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। দলের বিপর্যয়ের সময় শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ৩৮ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। এরপর মারুফা আক্তারের নতুন বলের দারুণ বোলিং এবং স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও চাপে পড়ে যায় আমিরাত।আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।বাংলাদেশের ব্যাটারদের শুরু থেকেই চাপে রাখেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অফস্পিনার সুরক্ষা কোট্টে। ১১ রানে তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রান আটকে রাখেন তিনি। বলকে বেশ উঁচুতে তুলে ব্যাটারদের শরীর থেকে দূরে রাখাই ছিল কোট্টের কৌশল। আর তাঁর ফাঁদেই পা দেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। প্রথম ওভারে তাঁর ভাসানো বলে ব্যাট চালিয়ে কভার অঞ্চলে এশা ওঝার হাতে ক্যাচ দেন দিলারা আক্তার।

তৃতীয় ওভারে একই ধরনের বলে ঠিকমতো ব্যাটের নিচে আনতে না পেরে মিডঅফে ক্যাচ দেন শোভনা মোস্তারি।পাওয়ারপ্লেতে নিজের তিন ওভারে মাত্র সাত রান দেন কোট্টে। ১১তম ওভারে আবার বোলিংয়ে ফিরে বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানাকে ফিরিয়ে দেন তিনি। নিচু ফুলটসে ব্যাট চালাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন নিগার। কোট্টের ২৪ বলের ১৬টিই ছিল ডট বল।এই এশিয়া কাপে এটিই ছিল শারমিন আক্তারের প্রথম ম্যাচ। রিতু মনির পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েই দলের বিপদের সময় হাল ধরেন তিনি।

শারমিন যখন ব্যাট করতে নামেন, বাংলাদেশের রান ছিল ৩ উইকেটে ৩৭। অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২৩ রানে ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৫৫ রানে পরিণত হয়। তবে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধৈর্য ধরে খেলেন শারমিন।প্রথমে উইকেটের পরিস্থিতি বুঝে নেন তিনি। ১৩ বলে ১৩ রান করার পর ১৩তম ওভার থেকে গতি বাড়ান। ইন্ধুজা নন্দকুমারের বলে কভার ড্রাইভে চার মেরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের শুরু করেন। এরপর এশা ওঝার বলে টানা দুটি চার হাঁকান তিনি।নাহিদা আক্তারের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের ইনিংসকে ঘুরে দাঁড় করান শারমিন।

নতুন বলে দারুণ সুইং করিয়ে আমিরাতের ব্যাটারদের শুরু থেকেই অস্বস্তিতে রাখেন মারুফা আক্তার। মাত্র চার বলেই ইনসুইংয়ে আমিরাতের অধিনায়ক এশা ওঝাকে ফিরিয়ে দেন তিনি।এরপর তিন নম্বরে নামা সামাইরা ধারনিধারকাকে ক্রস-সিম বলে উইকেটরক্ষকের ক্যাচে পরিণত করেন মারুফা। তিন ওভারে মাত্র ছয় রান দিয়ে পাওয়ারপ্লে শেষে আমিরাতকে ২ উইকেটে ১৫ রানে আটকে রাখেন তিনি। নবম ওভারে ফিরে নিজের বোলিং শেষ করেন ৪-০-৯-২ পরিসংখ্যানে।অন্য প্রান্তে অফস্পিনে আমিরাতের ওপর চাপ বাড়িয়ে যান সুলতানা খাতুন। ১০ ওভার শেষে আমিরাতের রান ছিল ৩ উইকেটে ৩৪। পরের ওভারেই থের্থা সতীশের বিদায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে।এরপর নাহিদা আক্তার গুরুত্বপূর্ণ ১৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে চাপ আরও বাড়ান। রাবেয়া খান নেন তিন উইকেট।

বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তোলার সুযোগই পায়নি আমিরাত। ইনিংসে ৭০টি বল থেকে কোনো রান আসেনি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে মাত্র ৬৯ রান করতে পারে তারা।ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করা বাংলাদেশের বোলাররা উইকেট পাওয়ার পর একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেন। একজন আঙুল ঠোঁটে রেখে নীরব থাকার ইঙ্গিত দেন, আর অন্য হাত আকাশের দিকে তুলে ধরেন।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা