ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাবিদ’ প্রতিযোগিতা। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, প্রমিত বাংলা চর্চায় উৎসাহিত করা এবং ভাষাভিত্তিক জ্ঞান ও সৃজনশীলতার বিকাশের লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, “বাংলা শুধু আমাদের মাতৃভাষা নয়; এটি আমাদের আত্মপরিচয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সময়ে আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার পাশাপাশি নিজের মাতৃভাষাকে শুদ্ধভাবে জানা, বলা ও চর্চা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর, বিশেষ করে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি বলেন, ভাষার সৌন্দর্য শুধু শুদ্ধ বানান বা ব্যাকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ভাষার মাধ্যমে মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ ও মানবিকতা প্রকাশ পায়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বাংলা সাহিত্যচর্চায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাবিদ প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলা বিভাগের প্রভাষক প্রিয়াব্রত কৈরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক মীর হোসাইন সরকার। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তোফায়েল আহমেদ শিহাব, প্রভাষক মো. আমিনুল হক ও প্রভাষক সাব্বির আহমেদ।
প্রতিযোগিতায় তিনটি গ্রুপে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। জুনিয়র গ্রুপে (ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি) প্রথম স্থান অর্জন করে সপ্তম শ্রেণির (ধানসিঁড়ি শাখা) সেঁজুতি দে সৃষ্টি। দ্বিতীয় হয় একই শ্রেণির সুস্পিতা সিংহ অর্চি এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে সপ্তম শ্রেণির (ডেফোডিল শাখা) মুহতাসিম উদদৌলা নাসিত।
ইন্টারমিডিয়েট গ্রুপে (নবম-দশম শ্রেণি) প্রথম হয় নবম শ্রেণির (মাছরাঙা শাখা) ঝিনুক মালা। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নবম শ্রেণির (সুরমা শাখা) ফিজা সিদ্দিকি এবং তৃতীয় হয় একই শ্রেণির আপন পাল।
সিনিয়র গ্রুপে (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) প্রথম স্থান অর্জন করে দ্বাদশ শ্রেণির (মাছরাঙা শাখা) নাফিসা নুজহাত চৌধুরী। দ্বিতীয় হয় একই শ্রেণির জান্নাত জাহান শিমু এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে দ্বাদশ শ্রেণির (রূপসা শাখা) লাবণী আক্তার মিম।
প্রতিযোগিতা চলাকালে মিলনায়তনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ ‘তাৎক্ষণিক প্রশ্নোত্তর পর্ব’। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থলে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
পরে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন গ্রুপের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের ভাষাভিত্তিক সৃজনশীল চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
—বিজ্ঞপ্তি
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




