'বাউল সম্রাট' শাহ আবদুল করিমের মৃ'ত্যুবার্ষিকী আজ
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ PM

'বাউল সম্রাট' শাহ আবদুল করিমের মৃ'ত্যুবার্ষিকী আজ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/০৯/২০২৬ ১২:৫৮:৪৭ PM

'বাউল সম্রাট' শাহ আবদুল করিমের মৃ'ত্যুবার্ষিকী আজ

ছবি : সংগৃহীত


কিংবদন্তিতুল্য 'বাউল সম্রাট' শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃ'ত্যুবার্ষিকী আজ ১২ সেপ্টেম্বর। গণসংগীত ও অসংখ্য জনপ্রিয় গানের এই রচয়িতা ২০০৯ সালের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে মা'রা যান।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। বাবা ইব্রাহীম আলী ও মা নাইওরজান বিবির পরিবারে জন্ম নেওয়া এই সুরস্রষ্টার সংগীতসাধনা শুরু হয় ছেলেবেলা থেকেই। শৈশব থেকেই একতারা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী।

গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষকে নিয়ে কালজয়ী গান লিখেছেন শাহ আবদুল করিম। মৃত্যুর পর সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।

বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নিয়েছিলেন কমর উদ্দিন, সাধক রসিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বক্সের কাছ থেকে। প্রখ্যাত বাউল ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহের দর্শন থেকে গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তিনি।

শাহ আবদুল করিমের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না, চলে না’, ‘রঙের দুনিয়া তরে চাই না, চাই না’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে ময়ূরপঙ্খী নাও’, ‘আমি কূলহারা কলঙ্কিনী’, ‘কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’, ‘রঙিলা বারই রে’, ‘সখী তোরা প্রেম করিও না’, ‘আমার মাটির পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে’, ‘বসন্ত বাতাসে সইগো’, ‘আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু’, ‘সখী কুঞ্জ সাজাও গো’, ‘গান গাই আমার মনরে বুঝাই’, ‘আগের বাহাদুরি গেল কই’, ‘আসি বলে গেল বন্ধু আইলনা’ ও ‘ভবসাগরের নাইয়া’।

একুশে পদকপ্রাপ্ত শাহ আবদুল করিম জীবিকা নির্বাহ করতেন কৃষিকাজ করে। শত অভাব-অনটন ও বাধা-বিপত্তির মধ্যেও গান সৃষ্টি থেকে বিরত থাকেননি তিনি।

সহজ-সরল জীবনযাপনের অধিকারী এই শিল্পী গানে গানে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এ কারণে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর হাতে নানা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মানুষকে প্রেরণা জুগিয়েছে তাঁর রচিত গান।

লেখার পাশাপাশি শাহ আবদুল করিম ১ হাজার ৬০০-এর বেশি গানে সুর দিয়েছেন। তাঁর গান সাতটি বইয়ে গ্রন্থিত আছে। বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তাঁর ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

শাহ আবদুল করিমকে স্মরণ করে প্রতিদিন ভক্ত ও স্বজনেরা গানের আসর বসান। তাঁর গান সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে চান ভক্ত-অনুরাগীরা।

জৈন্তাবার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ: