ছবি:সংগৃহীত
চা-বাগানের সবুজ গালিচা, পাহাড়ি প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য আর পাখির কূজনের মাঝে কবিতা, গান ও সাহিত্যের মায়াবী আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে জুঁই প্রকাশের ১২তম সাহিত্য আড্ডা ও বনভোজন। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার অহিদাবাদ চা বাগানে দিনব্যাপী এ আয়োজন লেখক-কবি ও সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
জুঁই প্রকাশের কর্ণধার কবি, লেখক ও সম্পাদক আজিজ ইবনে গণির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অহিদাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপক আলী আসগর আকাশ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট থেকে আগত কবি, গীতিকার ও আবৃত্তি প্রশিক্ষক বিমল কর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি সুহেনা আক্তার হেনা, ফয়সল আহমদ ফয়েজ, সাবিয়া ফয়েজ, বিধু চন্দ্র দেবনাথ, কবির আল মাহমুদ, সাংবাদিক আজিজুর রহমান জয়নাল, আবৃত্তিশিল্পী হামিদা বেগম ঝুমা, সংগঠক ও সমাজকর্মী শাহাব উদ্দিন, কবি ও শিক্ষক লুৎফুল হক চৌধুরী, ব্যবসায়ী আলী আহমদসহ অনেকে। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মিশু আক্তার, সালেহা বেগম প্রমুখ।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে অহিদাবাদ চা বাগানে পৌঁছান সাহিত্যপ্রেমীরা। এরপর শুরু হয় বাগানের সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পালা। চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথ ধরে ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি খাসিয়া পুঞ্জিতে গিয়ে স্থানীয় খাসিয়াদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অতিথিরা। কেউ কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে আবার কেউ শখের বশে খাসিয়াদের কাছ থেকে পানও সংগ্রহ করেন।
দুপুরের পর সবাই যোগ দেন মূল অনুষ্ঠানস্থলে। বাগান কর্তৃপক্ষের সৌজন্যে আপ্যায়ন শেষে শুরু হয় প্রতীক্ষিত সাহিত্য আড্ডা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কোরআন থেকে কালামে পাক তেলাওয়াত করেন কবি আবুল কাশেম।
এরপর একে একে কবিতা পাঠ, আলোচনা ও অনুভূতি প্রকাশে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। কবি-সাহিত্যিকরা নিজেদের লেখা কবিতা পাঠের পাশাপাশি অহিদাবাদ চা বাগানের সবুজ প্রকৃতি, নিসর্গ ও সেখানে কাটানো সময়ের অনুভূতি তুলে ধরেন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে এমন আয়োজন যেন সাহিত্যকে আরও আপন করে দেয়-এমন অভিব্যক্তিও উঠে আসে অংশগ্রহণকারীদের কথায়।
জমজমাট সাহিত্য আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে গান পরিবেশন করেন কবি আজিজ ইবনে গণি, কবি কবির আল মাহমুদ এবং রেদওয়ান মোহাম্মদ। কবিতা ও গানের সুরে চা-বাগানের নির্জন সবুজ প্রান্তর হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকজন কবিকে জুঁই প্রকাশের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
আয়োজনের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল জুঁই প্রকাশ থেকে প্রকাশিত দুটি বই ও একটি পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন। প্রকাশিত বই দুটি হলো ‘অদেখা অনুভব’ ও ‘আমার যতো স্টেটাস-৩য় খণ্ড’। পাশাপাশি উন্মোচন করা হয় ‘আনিকা এন্ড শোকরিয়া’ পত্রিকার মোড়ক। বই ও পত্রিকাগুলো কবি, লেখক ও সম্পাদক আজিজ ইবনে গণি রচিত ও সম্পাদিত। প্রকাশিত বই নিয়ে আলোচনা করেন প্রধান আলোচক কবি বিমল কর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অহিদাবাদ চা বাগানের ব্যবস্থাপক আলী আসগর আকাশ বলেন, মোবাইলের আসক্তির এ সময়ে এ ধরনের সাহিত্য আড্ডা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মোবাইলের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে তাদের হাতে মোবাইলের পরিবর্তে বই তুলে দিতে হবে।
তিনি বলেন, বই মানুষের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে, কল্পনাশক্তিকে বিকশিত করে এবং মানুষকে মানবিক করে তোলে। তাই নতুন প্রজন্মকে বই ও সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।
দিনভর প্রকৃতির সান্নিধ্য, কবিতা, গান, আড্ডা ও ভাবের আদান-প্রদানে ১২তম জুঁই প্রকাশ সাহিত্য আড্ডা হয়ে ওঠে কবি-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক আনন্দঘন মিলনমেলা।
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পর্যায়ক্রমে কবি আতাউর রহমান নোমান ও আবৃত্তিশিল্পী হামিদা বেগম ঝুমা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




